আমাদের ভারত, ২ জুলাই: বিজেপি উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ ও নবদ্বীপ জোনে ভালো ফল করবে বলে শনিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ফলে এই সব জায়গায় ক্ষমতায় এলে কৃষি উন্নয়ন হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। তার জন্য তারা কৃষি উন্নয়ন পর্ষদ সহ একাধিক পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে মোদী-শাহ বলেছিলেন ডাবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে এলে কৃষি উন্নয়নের জোর দেওয়া হবে বলে। এবার সেই কৃষি উন্নয়নকেই পঞ্চায়েত ভোটের অন্যতম ইস্যু করেছে বঙ্গ বিজেপি।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের বঞ্চনার অভিযোগে বর্ধমানের কৃষকদের নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মিছিল করেছেন। সিঙ্গুরে গিয়ে ক্ষতির কবলে পড়া আলু চাষীদের কথা বলেছেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এবার তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন, বিজেপি যে যে জেলা পরিষদ দখল করবে সেখানে কৃষি উন্নয়ন পর্ষদ খোলা হবে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা চাই চোর মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি স্বচ্ছ ভাবে প্রণয়ন করা হবে। বাংলার ৪৫ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে রাজ্যে কাজ করেন। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিজেপি। খোলা হবে হেল্প ডেস্ক। বিজেপির দখল করা জেলা পরিষদের কৃষির উন্নয়ন পর্ষদ খোলা হবে।”
তাঁর কথায় বিজেপির ইস্তেহারের উপর ভরসা করেই তাদের মানুষ ভোট দেবেন। প্রসঙ্গত শুভেন্দু অধিকারী কিছুদিন আগেই দাবি করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলায় চারজন আলু চাষী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ এই জেলাগুলিতে ধান ও আলুর উপরে কৃষকরা নির্ভর করেন অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার কালোবাজারিতে সার কিনতে বাধ্য করেছে কৃষকদের। ফলে বিঘা প্রতি জমিতে ৩৪ হাজার টাকা করে আলু চাষে খরচ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে২৭ হাজার টাকায় বিঘা প্রতি ৭ হাজার টাকা ক্ষতি করে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।বিরোধী দলনেতা দাবি করেছিলেন তার বিধানসভার ভেতরে এর প্রতিবাদ করেছেন।
সুকান্ত দলের ইস্তেহারকে বাম ও কংগ্রেসের থেকে একেবারে ব্যতিক্রমী বলেই উল্লেখ করেছেন। আর্সেনিক মুক্ত জল থেকে বিভিন্ন পরিবেশ কেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কাজের আশ্বাস দিয়েছেন তারা ইস্তেহারে, বলে জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

