খানা খন্দে ভরা ব্যস্ততম রাজ্য সড়ক সংস্কারের দাবিতে বড়জোড়ায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ বিজেপির

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২২ সেপ্টেম্বর: জেলার অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা বাঁকুড়া- দুর্গাপুর ৯ নং রাজ্য সড়ক খানা খন্দে ভর্তি। যার ফলে নিত্যদিন ঘটছে দুর্ঘটনা, সরকারের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ বিজেপির। এই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি। বেহাল রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিজেপির বড়জোড়া মন্ডল-১ কমিটি একটি প্রতিবাদ মিছিল করে বড়জোড়া চৌমাথা মোড়ে অবরোধ করে। এই বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধে নেতৃত্ব দেন দলের বড়জোড়া মন্ডল-১ সভাপতি গোবিন্দ ঘোষ ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ কর।

মন্ডল সভাপতি গোবিন্দ ঘোষ বলেন, দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলার যোগাযোগকারী রাস্তা এটি। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোটবড় গর্ত। সেই গর্তে বৃষ্টির জল জমে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। এজন্য রাস্তািটিতে প্রায় দিন দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে জেলা পূর্ত দফতরের কোনও হেলদোল দেখছি না। তাই রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে বিজেপি পথে নামতে বাধ্য হয়েছে। এদিন বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থকরা বড়জোড়া চৌমাথা মোড়ের অবরোধ স্থলে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে, দলীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।

বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ কর বলেন, রাস্তার টাকায় এখন তৃণমূলের কাটমানির উন্নয়ন হচ্ছে। সব টাকা ভাইপোর পকেটে চলে যাচ্ছে। বড়জোড়ার বিধায়ককে কাঠের পুতুল বানিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার প্রমাণ আমরা কিছুদিন পূর্বে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বাঁকুড়ার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে দেখেছি। ওই দিন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে এই রাস্তার পরিকাঠামো উন্নত করে সংস্কার ও বড়জোড়া চৌমাথা মোড়ে উড়ালপুলের কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন বোঝা গিয়েছে বড়জোড়ার বিধায়কের দম কত। সোমনাথ কর বিজেপি কর্মীদের মাথায় ব্যন্ডেজ বাঁধা প্রসঙ্গে জানান, তৃণমূলের যুবরাজ নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি কোথাও অবরোধ বিক্ষোভ করলে সোজা গুলি চালিয়ে দেবেন। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে মাথায় ব্যন্ডেজ বেঁধে প্রতিবাদ করেছি।

অপর দিকে বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখার্জি বিজেপি নেতাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ওরা রাজনৈতিক ভাবে এখনও সাবালক হতে পারেননি। তাই রাজনৈতিক সৌজন্যতা রেখে কথা বলতেও শেখেননি। এই সব বালখিল্যতাকারী বিজেপি নেতাদের মুখ আয়নায় দেখার পরামর্শ দিয়ে বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, বর্ষা হল পিচের মহা শত্রু। তাই বর্ষার শেষে খুব দ্রুত রাস্তা সারানোর কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *