চুঁচুড়ায় জেপি নাড্ডার সফরেও বিজেপি নেতাদের কোন্দল এড়ানো গেল না

আমাদের ভারত, হুগলি, ৮ জুন: বুধবার চুঁচুড়ার বঙ্কিমভবনে পৌছে উচ্ছসিত হয়ে পড়লেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। কিন্তু, সেই অনুষ্ঠানেও বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়ানো গেল না। অন্তত এমনটাই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন হুগলি সাংগঠনিক জেলার একাধিক বিজেপির নেতা কর্মীরা। এদিন সর্বভারতীয় সভাপতির অনুষ্ঠানেও বিজেপি নেতাদের কোন্দল এড়ানো যায়নি বলে অভিযোগ।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সর্বভারতীয় সভাপতির অনুষ্ঠানের উপস্থিত থাকার জন্য আগেই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় নাম না থাকা সত্বেও প্রাক্তন জেলা সভাপতিকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে এক প্রস্থ মারামারিও হয়েছে বলে খবর মিলেছে। এই নিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহের সঙ্গে সাংসদ লকেট চ্যাটার্জির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। সেই ঘটনার রেশ গিয়ে পরে চন্দননগর রাসবিহারী ইনস্টিটিউটে। সেখানেও বিজেপির ওই রাজ্য কমিটির সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

যদিও গোটা ঘটনার কথা অস্বীকার করেন দীপাঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, এই রকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। যদিও বিজেপির অন্যান্য নেতা কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির অনুষ্ঠানে দীপাঞ্জনবাবু যাকে ঢুকতে দিয়েছেন, সেই প্রাক্তন জেলা সভাপতির বর্তমানে পার্টির ন্যূনতম সদস্যপদটাও নেই।

এদিন দুপুরে বিজেপির রাজ্যে সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে জেপি নাড্ডা চুঁচুড়ার বঙ্কিমভবনে হাজির হন। বিজেপি নেতারা বঙ্কিম ভবন ঘুরে দেখেন। বিতর্ক এড়াতে সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন হুগলির সাংসদ লকেট চ্যটার্জি।

এদিন বঙ্কিমভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেপি নাড্ডা বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দেমাতরম ভবনে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পাঁচ বছর ছিলেন। পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই স্থানে থেকে অনেক কিছু রচনা করেছিলেন। সেই রচনাগুলো সারা দেশ তথা বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই পবিত্র ভূমি থেকেই এটা সম্ভব হয়েছে। এরকম জায়গায় আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমাদের রাষ্ট্রীয় গান বন্দে মাতারাম। এই গান স্বাধীনতার মন্ত্র হয়ে উঠেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আমরা সবাই প্রেরণা নিই। তিনি তাঁর জীবন যেভাবে দেশের জন্য অতিবাহিত করেছেন সেই প্রেরণাকে নিয়ে আমরাও চেষ্টা করব পুরো শক্তি দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে।

এরপর তিনি গঙ্গা পাড়ের দিকে এগিয়ে যান। গঙ্গার জল মাথায় নিয়ে সোজা চন্দননগরের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পৌছে তিনি রাসবিহারী ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখেন। সেখান থেকেই তিনি কলকাতার উদ্যেশে বেরিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *