বিজেপি করার অপরাধে মসজিদে নমাজ পড়তে না দেওয়ার অভিযোগ পুরুলিয়ার সাঁওতালডিতে

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩০ মার্চ: বিজেপি করার অজুহাত দেখিয়ে বেশকিছুদিন এক প্রকার সামাজিক বয়কট করা হয়েছিল একটি পরিবারকে। এবার সবেবরাতের রাতে তিন যুবককে মসজিদে নমাজ পড়তে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী কয়েক জনের বিরুদ্ধে। পুরুলিয়ার সাঁওতালডি থানার কাঁকিবাজার এলাকায় এই ঘটনায় রীতিমত রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।

পাড়া বিধানসভার অন্তর্গত জেড পি ৩২ এলাকার বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শামিম আনসারি। তাঁর ভাই চাঁদ আনসারি, আবুল আনসারিও বিজেপির সক্রিয় সদস্য। আর এতেই বাদ সাধে ওই এলাকার তৃণমূল নেতা শাকিল আনসারি ও ইকরাম আনসারি সহ অন্যান্যরা। ভোটের আগে বিজেপির ওই কার্যকর্তা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে গ্রামের দোকানদার, প্রতিবেশীদের না যোগাযোগ রাখার ফতেয়া জারি হয়েছিল বলে অভিযোগ চাঁদ আনসারির। ভোটের দিন স্থানীয় বুথের বিজেপির পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন আবুল আনসারী। আর এতে আরও ক্ষেপে যান স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। ভোটের পরের দিন রাতে সবেবরাতের নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকতে গেলে বাধার মুখোমুখি হন বিজেপির কার্যকর্তা ও তাঁর ভাইরা বলে অভিযোগ।

শুধু বিজেপি করার অভিযোগে তাঁদের কটাক্ষ করা হয় এবং হেনস্থা করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতা শাকিল আনসারি ও ইকরাম আনসারির বিরুদ্ধে এই নিয়ে সাঁওতালডি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আক্রান্ত বিজেপি সদস্য চাঁদ আনসারি। জেলা পুলিশ সুপারকে লেখা ওই অভিযোগে তিনি জানান, ধর্মীয় কাজে বাধা দেন উক্ত দুই তৃণমূল নেতা। এতে মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পড়েছে তিনি। দুশ্চিন্তায় রয়েছেন । প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেন পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে।

ঘটনা নিয়ে সরব হয় বিজেপি। বিজেপি জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস যে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে এই ঘটনা তারই প্রমাণ।” এই ঘটনা নয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেভাবে কেউ মুখ খুলতে চাননি। বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা মূর্তাজ আনসারি। তিনি বলেন, আমি সেখানের ঘটনার কথা লোকমুখে শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *