সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ সেপ্টেম্বর: এলাকায় এসে হুমকি দিলে তৃণমূল নেতাদের গাছে বেঁধে ‘উত্তম মধ্যম’ দেওয়ার নিদান দিলেন বিজেপি নেতা বিকাশ ঘোষ। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া ১নং মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতি বিকাশ ঘোষের এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতার এই ধরণের মন্তব্যে সোচ্চার তৃণমূল। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের কথায় এই মন্তব্য আসলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার বিকেলে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার ৪ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে পুয়াবাগানে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। সেই জনসভায় সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নিলাদ্রী দানা, জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডল সহ দলের অন্যান্য জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য বিকাশ ঘোষ। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের কর্মীদের উদ্যেশ্যে বিকাশ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল নেতারা হুমকি বা ধমক চমক দিতে এলে তাদের গাছে বেঁধে ভাল করে উত্তম মধ্যম দিন। তারপর তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন। আমাদের বিধায়ক বসে আছেন। তিনি সুপারিশ করে দেবেন।” বিজেপির ওই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে বাবার নাম ভুলিয়ে দেব। একশো দিনের কাজের টাকা লুঠ করেছে। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির টাকা লুঠ করেছে যে সব প্রশাসন ও তৃণমূলের চামচারা তারা তখন বুঝতে পারবে।” নিজ বক্তব্যের সমর্থনে বিকাশবাবুর যুক্তি, “কেউ আক্রমণ করতে এলে আমরা তো চুপাচপ বসে থাকব না, প্রতিরোধ আমরাও করবো। বিজেপি নেতার এই বক্তব্য ঘিরে জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতির সুনীল রুদ্র মন্ডল বলেন, “সর্বত্র যেভাবে লুঠ চলছে, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে ও বিজেপি কর্মীদের যেভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে ক্ষুব্ধ হয়েই একথা বলেছেন বিজেপি নেতা।”
তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলার মুখপাত্র মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, “আসলে বিজেপি একের পর এক নির্বাচনে হারছে। মানুষের সমর্থন নেই। পায়ের তলার মাটি নেই। এখন নজরে পড়তে এই ধরনের কথাবার্তা বলছে। বিজেপি নেতারা এরকমই কথা বলেন। এটাই ওদের সংস্কৃতি।

