কালিয়াগঞ্জের বিজেপি নেত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে দলে নেওয়া হয়েছিল, অভিযোগ তৃণমূল নেতার

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২৮ এপ্রিল: কালিয়াগঞ্জ ব্লকের বরুনা গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান বাজারু দেবশর্মা দলের ব্লক সভাপতি ও বিধায়কের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করায় অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। তার অভিযোগ, বিজেপির রীণাবালা দেবশর্মাকে প্রলোভন দেখিয়ে দলে নেওয়া হয়েছিল। তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

বরুনা পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রাক্তন প্রধান রীণাবালা দেবশর্মা তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু কয়েকমাসেই তার মোহভঙ্গ হয়। তৃণমূল ছেড়ে ফের নিজের পুরোনো ঘর বিজেপিতে ফেরেন তিনি। গত মঙ্গলবার রায়গঞ্জে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে রীণাবালার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে দলে তাকে স্বাগত জানান বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার ও জেলার সাধারণ সম্পাদক কার্তিক পাল।

রীণাবালা দেবশর্মা তৃণমূল ছেড়ে পুনরায় বিজেপিতে যোগদান করায় বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বাজারু দেবশর্মা দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

বিজেপিতে ঘর ওয়াপসি প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান রীণাবালা দেবশর্মা বলেন, ভয় এবং প্রলোভনে তৃণমূলে গিয়েছিলাম। নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার পুরোনো দল বিজেপিতে ফিরে এলাম।

একই কথা বলেছেন, বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বাজারু দেবশর্মা। তিনি বলেন, দলে আগেই উপপ্রধান হিসাবে তার নাম সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অথচ কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিতাই বৈশ্য ও কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় রীনাবালা দেবশর্মাকে আইসিডিএস’এর চাকরি ও উপপ্রধান করার আশ্বাস দিয়ে তৃণমূলের যোগদান করায়। কিন্তু সেই আশা পুরণ হয়নি, তাই আবার বিজেপিতে চলে গেছেন।

এই বিষয়ে নিতাই বৈশ্য বলেন, বরুনা উপপ্রধান বাজারু দেবশর্মার বক্তব্য শুনিনি, তৃণমূলের কোনও দুর্দিন আসেনি যে কাউকে ভয় দেখিয়ে এবং লোভ দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাতে হবে। রাজ্য জুড়ে মূখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে সামিল হতে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের কর্মীরা তৃণমূলে যোগদান করছে। তৃণমূলের কোনও কর্মী বা সদস্যের বক্তব্য তা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, দলীয় মত হতে পারে না। তিনি যদি এই ধরণে মন্তব্য করে থাকে তাহলে দলের মধ্যে আলোচনা করা হবে। যদি তিনি দলীয় নিয়মভঙ্গ করে থাকেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *