কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৫ মার্চ:
বিজেপি হেরে যাচ্ছে তাই অফিসার সরাচ্ছে কমিশন। এতে কোনও লাভ হবে না। বৃহস্পতিবার দাঁতনের সভা থেকে এভাবেই কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোদী, অমিত শাহ বাংলায় শয়ে শয়ে সভা করলেও লাভ কিছু নেই। তৃণমূলের সরকারই ফের ক্ষমতায় ফিরছে। এই খবর আগাম পেয়ে গেছে তাই এখন অফিসার বদলের খেলায় মেতেছে। এদিন দুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের তৃণমূল প্রার্থী বিক্রম প্রধানের সমর্থনে তালদায় নির্বাচনী সভা থেকে তাঁর প্রশ্ন অফিসার কি ভোট দেন? একজনকে বদলি করে আরেক জনকে আনা হচ্ছে। অফিসারদের মধ্যেও পরস্পরের মধ্যে সংঘবদ্ধতা রয়েছে। যে কায়দায় বিবেক সহায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে তিনি সব জানেন। কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তিনি যে সন্তুষ্ট নন তা জানিয়ে তিনি বলেন, যতই অফিসার বদলি করো মাইনে তোমার ৪১২। বিজেপি ও কমিশন মিলে কি কি প্ল্যান করছে সব তিনি জানেন। ঘরেরও ঘর আছে, চোখেরও চোখ আছে। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোথায় কি কি ষড়যন্ত্র হচ্ছে সব খবর আসছে। বিজেপি খেলায় হেরে গেছে তাই এখন অফিসার বদলের খেলায় মেতেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্ৰথম দফার নির্বাচনের শেষ নির্বাচনী প্রচার সারেন মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী জুন মালিয়ার সমর্থনে। মেদিনীপুরের তাঁতিগেড়িয়ার এই সভায় তিনি আগাগোড়া বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। দিল্লি শাসন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করছেন। সবাইকে ধমকে রেখে দিয়েছেন। নির্বাচন চলছে, ৯ টি রাজ্যের সাংসদরা লোকসভায়, রাজ্যসভায় যেতে পারেননি এর মধ্যে মাঝ রাতে বিল পাশ করিয়ে দিল্লি সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নিল?

মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়,’ কি ক্ষমতার জোর, গুন্ডাগিরি, দাদাগিরি দেখায়, চোখগুলো দেখে মনে হবে যেন ঠুকরে খেতে আসছে। এরকম প্রধানমন্ত্রী যেন সারা পৃথিবীতে না জন্মায়।’ দেশের এ হেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র রুখে দাঁড়ান। লড়াই করেন তাই তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয় ‘তোমায় দেখাব।’ মমতা বলেন, কি দেখাবেন? কাঁচকলা দেখাবেন? বড়জোর মেরে ফেলতে পারেন। বাংলা রক্ষার লড়াইতে তিনি মরতেও রাজি আছেন। যতক্ষন শ্বাস আছে ততক্ষণ মানুষের জন্য লড়াই করবেন।

এদিনের সভা থেকেও তৃণমূল নেত্রী কর্মীদের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা একটা যুদ্ধ। বিজেপি এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছুই করতে পারে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট থেকে পুলিশ পাঠাচ্ছে। যদি বাইরের পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে তবে মা বোনেরাও হাতা, খুন্তি, বেলনি নিয়ে তৈরী থাকবেন। যাঁরা দিন রাত এক করে ভোটের মেশিন পাহারা দেবেন তিনি তাঁদের জন্য কিছু করবেন বলেও জানান।


