সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ মার্চ:
ইভিএম মেশিনের কারসাজিতেই পুরভোটে দলের ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সদ্যসমাপ্ত পুরভোটে বাঁকুড়া পুরসভায় খাতা খুলতে তো পারেইনি বিজেপি, উপরন্তু গত বারের জেতা দুটি আসনও হাতছাড়া। অথচ বিগত লোকসভা নির্বাচনে ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টি ওয়ার্ডেই বিজেপি এগিয়ে ছিল, বিধানসভা নির্বাচনে সেই ফল ধরে রাখতে না পারলেও ১৫টি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রাধান্য ছিল। তার মাত্র কয়েকটা মাস পরই বিজেপির এই হাল দেখে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে ওয়ার্ডে বিজেপি সাংসদের বসবাস, ওই ওয়ার্ডেই বিধায়ক তথা বিদায়ী বোর্ডের কাউন্সিলর নিলাদ্রী দানার বসবাস সেই ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ধরাশায়ীই শুধু নয়, ভোট প্রাপ্তির নিরিখে চার নম্বরে, সেখানে সিপিএম প্রার্থী দু’নম্বরে (৭৬৫ ভোট) তিন নম্বরে রয়েছেন একদা বিজেপির ডাকাবুকো নির্দল প্রার্থী অরূপ ব্যনার্জি (৫২৭ভোট), সেখানে বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ মাইতি ৪৩৮ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে। এছাড়াও বিগত পুরভোটে বিজেপির দখলে থাকা ২৩ নং ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর লক্ষ্মী মাল এবারেও প্রার্থী হলেও তৃণমূলের ইতু দাসের কাছে দেড় হাজারের কিছু বেশি ভোটে পরাজিত হন।সে জায়গায় ১০ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন পৌরপ্রধান শম্পা দরিপাকে জোরালো টক্কর দিয়ে মাত্র ৯৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিজেপির তরুণ প্রার্থী কৌশিক সিনহা। ৯নং ওয়ার্ডেও বিজেপি প্রার্থী দ্বিতীয় স্হানে।
বিজেপির পুরভোটে দলের এই হাল সম্বন্ধে বিজেপি বিধায়ক নিলার্দ্রী দানার স্পষ্ট বক্তব্য, ইভিএমের কারসাজিতেই পুরভোটে এই ফলাফল। শুধুমাত্র বিজেপি নয়, একই দশা হয়েছে সিপিএমের। ওদের পাঁচজন কাউন্সিলর ছিলেন বিগত বোর্ডে, কংগ্রেসের একজন কাউন্সিলর-তারা কেউ জিততে পারেননি।
অপরদিকে বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র বলেন, পুরভোটে এই ফলাফলের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে সরকার গঠন, অপরদিকে বিজেপির সাংসদ এবং বিধায়ক জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ, এছাড়াও দুয়ারে সরকারে মানুষের সুবিধা। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে সুফলে বিপুল সংখ্যক মহিলার ভোট আমাদের প্রার্থীদের অনূকূলে এসেছে। এইসব কারণেই মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন।

