আমাদের ভারত, ১৩ এপ্রিল: বগটুইয়ের মতো হাঁসখালি ধর্ষণ কাণ্ডেও তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গড়ল কেন্দ্রীয় বিজেপি। পাঁচ সদস্যের তথ্য অনুসন্ধান কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটিতে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাংসদ রেখা ভার্মা উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী বেবিরানী মৌর্য, তামিলনাড়ুর বিধায়ক ভানাতি শ্রীনিবাসন, মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধি খুসবু সুন্দর। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রয়েছেন বিধায়ক শ্রীরূপা চৌধুরী। তারা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তারপর জেপি নাড্ডাকে রিপোর্ট জমা দেবেন।
বগটুই কাণ্ডেও একই পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঘুরে গিয়েছিল রামপুরহাটের গ্রাম থেকে। সেই রিপোর্ট নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জমা দিয়েছিল। এবারেও সেই একই পথে হাঁসখালিকেও জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বিজেপি যখনই এই ধরনের কমিটি গঠন করে তখন পৃথক রাজ্যের প্রতিনিধিরাই থাকে সেখানে। যে রাজ্যের ঘটনা সে রাজ্যের একজন প্রতিনিধি থাকেন। এক্ষেত্রে বাংলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিধায়ক শ্রীরূপা চৌধুরি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা এই কমিটিতে যেহেতু উত্তরপ্রদেশের দুজন প্রতিনিধি রয়েছে সেটি বিশেষ একটি বার্তা বাহক। হাঁসখালির ঘটনা যে হাথরাসের মতোই সেটা বলে মনে করিয়ে দিতে চাইছেন জেপি নাড্ডা। রাজ্যের শাসক দলকেও বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি।
শ্রীরূপা চৌধুরি জানিয়েছেন, হাঁসখালির নির্যাতিতার পরিবারের লোকেদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনায় একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দিনেদুপুরে এই জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। ওই পরিবারের ওপর যা হয়েছে তা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাও ভয় পাচ্ছে।
কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই হাঁসখালি ঘটনার তদন্ত ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। এরমধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় দল পাঠানো প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, সিবিআই তাদের মতো তদন্ত করবে। বিজেপি সেই তদন্তে নাক গলাবে না। রাজ্যের পরিস্থিতি ঠিক কেমন সেটা গোটা দেশের জানা উচিত। বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা এসে দেখে গেলে সবাই জানতে পারবেন, যে বাংলায় কেমন অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

