সরকারী প্রকল্প নিয়ে অসহায় পরিবারের দুয়ারে পৌঁছে গেলেন চন্দ্রকোনার বিডিও

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৩ সেপ্টেম্বর:
পথদূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল পরিবারের দুই কর্তা, দিশেহারা পরিবার। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চরম সংকটে দিন কাটছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের কুঁয়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুঁয়াপুর এলাকায় দুটি পরিবারের সদস্যদের।

চলতি বছরের ৫ মার্চ কুঁয়াপুরেই পথদূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল জীতেন পূজারী ও কার্তিক নায়েক। দিন আনা দিন খাওয়া মৃত এই দুই পরিবারের কর্তার মৃত্যুতে বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কেও জানতেন না বা সরকারি সুবিধা পেতে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। সরকারি পরিষেবা নিতে যাওয়ার সামর্থ্য টুকুও নেই মৃত জীতেনের স্ত্রী বাসন্তী পূজারী ও মৃত কার্তিকের স্ত্রী বাবলী নায়েকের। একচিলতে বাড়িতে বসবাস। তাছাড়া উপার্জন বা রুজিরোজগারের আর বিকল্প ব্যবস্থাও নেই এই দুই মহিলা ও তার সন্তানদের।

চন্দ্রকোনা ২ ব্লকে চলছে দুয়ারে সরকার শিবির। সরকারি প্রকল্প প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দিতে এই শিবির। কিন্তু ব্লকের মধ্যে এমন দুই অসহায় মহিলা ও তার পরিবার রয়েছে, বৃহস্পতিবার এমন খবর পৌঁছয় চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের বিডিও অমিত ঘোষ ও জয়েন্ট বিডিও অভিজিৎ পোড়্যার কাছে। তড়িঘড়ি দুজন আধিকারিক নতুন পোশাক, বেবি ফুড, শুকনো খাবার, খাদ্য সামগ্রী এবং প্রয়োজন জিনিসপত্র সাথে নিয়ে পৌঁছে যান কুঁয়াপুরে ওই মহিলাদের বাড়ি। এমনকি দুয়ারে সরকারের প্রকল্পের ফর্ম ও কাগজপত্রও সাথে নিয়ে যান।

ওই দুই পরিবারের মহিলাদের সাথে কথা বলা এবং তাদের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়ার পর, বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে প্রাপ্য সরাসরি সাহায্যে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ফর্ম ফিলাপ। বিডিও, জয়েন্ট বিডিও নিজেরাই ফর্ম ফিলাপ থেকে নথিপত্রের জেরক্স নিজেরাই করিয়ে এনে তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন পত্র জমা নেন। বিডিও ও জয়েন্ট বিডিওর এহেন উদ্যোগে হতচকিত স্বামী হারা দুই মহিলা। আর একাজে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে পাশে থাকার চেষ্টা মাত্র সরকারি নিয়মকানুন মেনেই জানান দুই প্রশাসনিক আধিকারিক।

ব্লক প্রশাসনের কাছে খবর যদি যেতে পারে এই পরিবারের এহেন পরিস্থিতি নিয়ে, তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীদের জনসচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, তাদের নজরে এমন একটি ঘটনা এল না কেনো বা তারাই খোঁজ নেননি কেনো? যাইহোক বিডিও ও জয়েন্ট বিডিওর এহেন উদ্যোগের প্রশংসায় চন্দ্রকোনাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *