হুগলীতে মহা সমারহে পালিত হল জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা

আমাদের ভারত, হুগলি, ১৪ জুন: মহা সমারহে পালিত হল শ্রীরামপুর মাহেশের জগন্নাথ দেবের ৬২৬ তম স্নানযাত্রা। মঙ্গলবার স্নানযাত্রা হয়েছে রীতি মেনে। এদিন সকালে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার বিগ্রহ জগন্নাথ দেবকে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বার করা হয়। এরপর দুপুরে জগন্নাথ দেবের মন্দিরের পাশেই স্নানপিড়ির মাঠের নাট মন্দিরে জগন্নাথ, বলভদ্র ও শুভদ্রার স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়। বিগ্রহের মাথায় দুধ ও গঙ্গাজল ঢালার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তরা হরিনাম সংকীর্তন শুরু করতে থাকেন।

স্নানযাত্রার রীতিও ছিল অভিনব। এদিন দেড় মন দুধ এবং ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথকে। ভক্তদের বিশ্বাস, স্নানের পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে জগন্নাথের। এর পর সেই বিগ্রহ লেপ, কম্বল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় অঙ্গরাগ। ভেষজ রং দিয়ে রাঙানো হয় জগন্নাথকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় গর্ভগৃহের দরজা। কথিত আছে, কবিরাজের পাঁচন খেয়ে অবশেষে জ্বর সারে। তার পর শুরু হয় নবযৌবন উৎসব। এর পর দিন রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা। মাহেশের রথযাত্রায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় প্রতি বছর। পানিহাটির চিঁড়ে মেলায় দুর্ঘটনা ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক ছিল হুগলি জেলা প্রশাসন। এদিন আগে থেকেই ঘটনাস্থলে চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েত রাখা হয়েছিল।

কথিত আছে, এই সময়ে শ্রীরামপুরে জগন্নাথ দেবের এই স্নানযাত্রা বড় ধুমধাম করে পালিত হত। মাহেশের এই স্নানযাত্রা দেখতে কলকাতা থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় জমাতেন শ্রীরামপুরের মাহেশে। হুতুম পেঁচার নকশায় শ্রীরামপুর মাহেশের স্নানযাত্রার বিস্তারিত বিবরন দেওয়া আছে। জানা গিয়েছে, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আগের দিন পূনার্থীরা কলকাতা থেকে বড় বড় বজরা, পিনেস, কলের জাহাজ ও বোট ভাড়া করে শ্রীরামপুরের মাহেশে আসতেন। ওই সময়ে গঙ্গায় বাইচ খেলা হত। স্নানযাত্রার পর রাতভর কলকাতার বাবুরা আমোদ প্রমোদ করতেন। যদিও এখন সে সব অতিত। এখন সেই রামও নেই। সেই অযধ্যাও নেই। তবুও এদিন জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ মাহেশে ভিড় জমায়।

শ্রীরামপুর জগন্নাথ জিউ ট্রাষ্টি বোডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী বলেন, প্রথা মেনে ভাদ্রমাসের সাড়াসাড়ি বানের সময়ে গঙ্গা থেকে আঠাস ঘড়া গঙ্গাজল তুলে রাখতে হয়। সেই জলের সঙ্গে দেড়মন দুধ মিশিয়ে জগন্নাথ, বলভদ্র ও শুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। স্নানের পরে তিনটি বিগ্রহকে মূল মন্দিরের গর্ভ গৃহে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যের সময়ে বিগ্রহের জ্বর আসে। তারপরেই তাদের শরীর লেপ কম্বলে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিনের পর থেকে মন্দিরের মূল দরজা বন্ধ হয়ে যায়। বিগ্রহদের সুস্থ করার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কবিরাজদের এনে পাঁচন দেওয়া হবে। সাত আট দিনের মাথায় জগন্নাথ, বলভদ্র ও শুভদ্রা সুস্থ হয়ে উঠবে। তারপরেই বিশেষ পূজা পাঠ শুরু হবে। রথযাত্রার একদিন আগে মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। চলতি বছর ১লা জুলাই সারা দেশের পাশাপাশি মহাসারম্বরে পালিত হবে মাহেশের রথযাত্রা উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *