আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২২ জুলাই: দুজনেরই নাম ‘মিঠু’। একজন ছোট মিঠু, অন্যজন বড় মিঠু। মিঠু আসলে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আদরের দুই টিয়া পাখি। এই দিনেই দুজনকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন বীরভূমের নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের কয়থা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। তাই বৃহস্পতিবার ঘটা করে দুজনের জন্মদিন পালন করা হল বাড়িতে। হল ভুরি ভোজ। আপ্যায়িত ছিল পাড়ার খুদেরা।
একজন এক পেরিয়ে দুইয়ে পা দিয়েছে, অন্যজন তিনে পা দিয়েছে। দুজনকেই এই দিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন নলহাটির কয়থা গ্রামের বাসিন্দা মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী ওই পরিবারের দীর্ঘ দিন ধরেই শখ ছিল বাড়িতে টিয়া পুষবেন। সেই মতো বছর দুয়েক আগে আজকের দিনে একটি টিয়া বাড়িতে আনেন। বছরখানেক আগে একই দিনে আরও একটি টিয়া আনেন বাড়িতে। দুটোরই নাম দেওয়া হয় মিঠু। একজন ছোট মিঠু, অন্যজন বড় মিঠু। তাই এদিন দুজনের জন্মদিন পালন করা হল আর পাঁচজন মানুষের জন্মদিনের মতোই। সকালে কেক কাটা হয়। এরপর টিয়ার পছন্দের খাবার কাজু, কিসমিস, ছোলার ডাল, লুচি, পায়েস, মিষ্টি, ফলের মধ্যে বেদানা, পেয়ারা দিয়ে ভুরি ভোজ করা হয়। বাড়ির একমাত্র ছেলে শুভ বন্দ্যোপাধ্যায় কেক কেটে প্রথমে দুই টিয়াকে খাওয়ান। এরপর পরিবার এবং উপস্থিত খুদেদের মধ্যে কেক বিতরণ করা হয়।
গৃহকর্ত্রী তৃণা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ছেলের যেমন জন্মদিন পালন করি সেভাবেই দুই মিঠুর জন্মদিন পালন করলাম। মিঠুরা যা যা খেতে চায় তাই আয়োজন করা হয়েছে”।
ছেলে শুভ বলেন, “এরা পাখি নয় আমাদের পরিবারের সদস্য। সকাল থেকে উঠে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে দুজন থাকে। খুনসুটি করে। এদের জন্য লকডাউনের একাকীত্ব অনুভব করতে পারিনি। তাই এদের জন্মদিন পালন করলাম”।

