সংসদে হানা উদ্বেগজনক! পিছনে কে বা কারা? কী উদ্দেশ্য ছিল? গুরুত্ব দিয়ে জানা প্রয়োজন, ঘটনায় প্রথম প্রতিক্রিয়া মোদীর

আমাদের ভারত, ১৭ ডিসেম্বর: সংসদে রংবাজদের হানার ঘটনায় এই প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংসদ কমপ্লেক্সে যে ঘটনা ঘটেছে তা উদ্বেগজনক। এর গভীরে যাওয়া দরকার। তাই খুঁটিয়ে ঘটনার তদন্ত করছেন তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরনের বিষয়ে বিতর্ক বা প্রতিরোধ এড়িয়ে চলা দরকার।

এটি হিন্দি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংসদে যে ঘটনা ঘটেছে তাকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনোভাবেই এর অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। তিনি জানান, লোকসভার অধ্যক্ষ পূর্ণ গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলি কঠোরভাবে তদন্ত করছে। এর পিছনে কারণ কি এবং হামলাকারীদের উদ্দেশ্য কী, এর গভীরে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ। এরপর এর সমাধানও খুঁজে বের করতে হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ এই ধরনের বিষয়ে বিতর্ক বা প্রতিরোধ এড়িয়ে চলা।

সংসদে জঙ্গি হামলার ঘটনার বার্ষিকীতে নিরাপত্তায় গাফিলতির নিয়ে বিরোধী দলগুলি লাগাতার সরকারকে আক্রমণ করে চলেছে। গত দু’দিন ধরে সংসদে কার্যক্রম চলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই বিষয়ে উভয় কক্ষে বিবৃতি দিতে হবে। সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

প্রসঙ্গত, ১৩ ডিসেম্বর যখন সংসদে জঙ্গি হামলার বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে তখনই সংসদে দু’জন ঢুকে পড়েন। ভিজিটার পাস নিয়ে ঢোকা দুই যুবক গ্যালারি থেকে হঠাৎই লাফ দিয়ে সোজা লোকসভার গ্যালারিতে পড়েন। এরপর জুতোর মধ্যে লুকিয়ে রাখা স্মোক গ্যাস ছড়িয়ে দেন সংসদের ঘরে। হলুদ রঙের ধোঁয়ায় ভরে যায় সংসদের ঘর। এই দুই যুবকের একজন লক্ষ্মৌয়ের বাসিন্দা সাগর শর্মা, অপরজন মহীশূরের বাসিন্দা মনোরঞ্জন ডি। এক বিজেপি সাংসদের সুপারিশের পাস নিয়ে এসেছিলেন তারা। সংসদের ভেতরে যখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটছিল সেই সময়ে সংসদের বাইরেও তাদের দু’জন সঙ্গী স্লোগান দিচ্ছিলেন। নীলম ও অমল শিন্ডে নামে দু’জন গ্যাস ছড়িয়ে সংসদের গেটের বাইরে পরিবহন ভবনের দিকে স্লোগান দেয়। পুলিশ ওই দুজনকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিজের হেফাজতে নেয়।

পার্লামেন্টে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে রাজনীতি এখন চরমে উঠেছে। বিরোধীদের তরফ থেকে একটানা দাবি উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, হাউসে এসে এই বিষয় বক্তব্য রাখা উচিত। এদিকে হিন্দী সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী সংসদের নিরাপত্তার ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিষয়টি তদন্ত করার প্রয়োজন এবং একইসঙ্গে এই মামলার আরো গভীরে যাওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *