যুদ্ধের আবহ! বাড়ি ছাড়ছেন তাওয়াং’য়ের বাসিন্দারা, ব্যাপক আনাগোনা সেনাবাহিনীর গাড়ির

আমাদের ভারত, ১৭ ডিসেম্বর: যুদ্ধের আবহাওয়া অরুণাচলের সীমান্তে। কিছুদিন আগেই তাওয়াং দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল চিন। যদিও পাল্টা জবাব দিয়ে, পাথর বৃষ্টি ও লাঠি পেটা করে তাড়া করে লাল ফৌজকে ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে চিন একবার হামলা চালিয়ে কখনো থামেনি। ফের হামলা চালাতে পারে। সেই কারণেই সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

লাগাতার ভারতীয় সেনা মহড়া চালাচ্ছে। সীমান্তে ভারতীয় সেনার প্রচুর গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। আঁটোসাঁটা নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি জওয়ান।বেস ক্যাম্পে রয়েছে হেলিপ্যাড। চিনকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ ভারত। চারিদিক থেকে পাহাড়ে ঘেরা সেলা বেস ক্যাম্প। এই বেস ক্যাম্পে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট।

৯ ডিসেম্বর চিনের হামলার পর থেকে নিরাপত্তা বাড়াতে বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ভারত। এই বেস ক্যাম্পেই শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করার প্রস্তুতিও চলছে।

শীতকালে তাওয়াংয়ের বেস ক্যাম্পের পাশের লেকে বরফ জমেছে। মাঝেমধ্যে তুষারপাত হচ্ছে। এই সময়ে অন্যান্য বছর অরুণাচলে পর্যটকের আনাগোনা অনেক গুণ বাড়ে। কিন্তু এবার যুদ্ধের আবহে তাওয়াং পর্যটক শূন্য। যারা ঘুরতে গিয়েছিলেন তারাও তড়িঘড়ি ফিরে চলে এসেছেন।

বর্তমানে এই অঞ্চলে শুধুই সেনাবাহিনীর গাড়ির আনাগোনা। অন্য কোনো গাড়িকে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলে দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা যেনো ফিরে না আসেন।

দুর্গম এই পার্বত্য অঞ্চলকে চিন টার্গেট এর ভৌগলিক অবস্থানের জন্যই। বহুদিন ধরেই লাল ফৌজের নজরে রয়েছে অরুণাচলের এই তাওয়াং অঞ্চল। কারণ এখান থেকে সহজে নজরদারি করা যায়। উত্তর ও উত্তর পশ্চিম তিব্বতে নজরদারি চালানো যায় ভুটান সীমান্তেও।‌ তাই তাওয়াং দখল করতে পারলেই গোটা উত্তর পূর্বের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসবে বলে মনে করে চিন।
সেই কারণে ৯ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে তাওয়াং এর অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল লাল ফৌজ।

ভারতীয় সেনার আশঙ্কা আবারও চিন হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই অরুণাচল প্রদেশের সেনা টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। বায়ু সেনার বিমানও অরুণাচলের আকাশে উড়ছে মাঝেমধ্যেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *