অনুষ্ঠিত হলো স্বর-আবৃত্তি মেদিনীপুরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘উৎসারিত আলো’

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ জানুয়ারি: মেদিনীপুর শহরের প্রদ‍্যুত স্মৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত হলো স্বর- আবৃত্তি মেদিনীপুরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘উৎসারিত আলো’। আবৃত্তির মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানালো হলো স্বর-আবৃত্তি’র পক্ষ থেকে। সংস্থার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন জেলার বিশিষ্ট দশটি সাংস্কৃতিক সংস্থার শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রিক আবৃত্তির অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত মনোগ্রাহী। আয়োজক সংস্থার ছাত্রছাত্রীরা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পোস্টকার্ডের মাধ্যমে তাদের পরিচিত আত্মীয়-স্বজনদের চিঠি লিখে অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

স্বর-আবৃত্তির অধ্যক্ষ শুভদীপ বসু বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পোস্ট অফিস, পোস্ট বক্স, পোস্টম্যানদের ছোটরা চেনেনা। তাই হাতে লেখা চিঠি ছোটদের কাছে প্রথম এবং এটি দারুন অভিজ্ঞতা বলে আমাদের মনে হয়।’ বাংলার পাখি, ফুলে ফুলে, ভোকাট্টা, মেঘেদের কান্ড দেখো, এই মশা, আয় ভূত, পুজো এলো, আমাদের শিক্ষক, ভ্রমণ, এলোমেলো ছড়া, ছড়ায় অন্নদাশঙ্কর, চন্দ্রযান, সহজপাঠ বিষয়ে আবৃত্তি’র আলেখ‍্যগুলি ছিল ভিন্ন স্বাদের ও অনন্য। একলব্য থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন ও স্বর-আবৃত্তি মেদিনীপুরের যৌথ প্রযোজনায় ‘এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ আবৃত্তির মঞ্চায়ন সকলের নজর কাড়ে‌। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শোভন সুন্দর বসু ও বাংলা ভাষার প্রথম আবৃত্তির ব্যান্ড বৃষ্টি’র মনোজ্ঞ উপস্থাপনা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঈশিতা চট্টোপাধ্যায় ও শতাব্দী গোস্বামী, সহযোগী কন্ঠ হিসেবে ছিলেন অমিতেশ চৌধুরী। সংস্থার অধ্যক্ষ শুভদীপ বসু বলেন, “প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। বিকেল ৩ টে ৫ মিনিট থেকে প্রায় সাত ঘন্টা ধরে সফল ভাবে এই অনুষ্ঠান চলেছে। প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি দর্শকরা অনুষ্ঠানের আনন্দ উপভোগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক অভিভাবিকাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা পাশে থাকেন বলেই আমরা নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখতে পারি।”

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় শুভদীপ বসু ও সৌম্যদীপ চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘দোসর’ সাহিত্য পত্রিকার পঞ্চম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা ‘আরোগ্য’। বহু গুণী কৃতি মানুষের সমাগমে স্বর-আবৃত্তি মেদিনীপুরের এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘উৎসারিত আলো’ সাংস্কৃতি জগতে আলো ছড়াবে বলে সাংস্কৃতিক মহলের ধারণা। স্বর-আবৃত্তির পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দীপক বসু, দীপা বসু ও মনীষা বসু। অনুষ্ঠানে শিল্পীদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত সাহা, বিশ্বেশ্বর সরকার, চন্দন বসু, ডাঃ সুহাস মন্ডল, স্বস্তি মুখোপাধ্যায়, লক্ষণচন্দ্র ওঝা সহ মেদিনীপুরের সংস্কৃতি জগত ও অন্যান্য ক্ষেত্রের অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।আমন্ত্রিত আবৃত্তির দল হিসেবে দেবব্রত দত্তের পরিচালনায় ‘ছন্দায়ন’ এর শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সহযোগী সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছন্দম, স্বরলিপি, সুরবাহার, জাগরী সঙ্গীত নিকেতন, মল্লার, নটরাজ ডান্স অ্যাকাডেমি, নৃত্যাঞ্জলি, শেষাদ্রী ডান্স অ্যাকাডেমির প্রতিনিধিরা। ছিলেন ব্রততী মল্লিক, মোনালি দাস, সুমনা ভট্টাচার্য ও সঙ্গীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *