রামপুরহাটকান্ডের নেপথ্যে ‘আরব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ’-এর অভিযোগ

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ: রামপুরহাটকান্ডের নেপথ্যে অভিযোগ উঠল ‘আরব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ’-এর। বুধবার হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য টুইটারে লিখেছেন, “রামপুরহাটের ঘটনার পিছনে যতটা রাজনীতি আছে, তার থেকে অনেক বেশি আছে আরব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ।“

‘আরব সাংস্কৃতি’ প্রসঙ্গে প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভারতীয় জাদুঘরের অছি পরিষদের সদস্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে জানান, “রসুল বিজয়’ বা ‘জঙ্গ নামা’ জাতীয় গ্রন্থ পড়লেই বোঝা যাবে আরবের সংস্কৃতি কতখানি নিষ্ঠুর, প্রতিহিংসা-পরায়ণ। আটশ’ ইহুদী যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করা হচ্ছে, আর তিনি নির্বিকার! রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, মধ্যযুগের ভারতে শুধু কাটাকাটি মারামারি! আওরঙজেব অগ্রজ দারার ছিন্নমুণ্ড না দেখে তৃপ্ত হচ্ছেন না! লক্ষ লক্ষ হিন্দু বন্দীর শরীর টেনে এনেছিল তৈমুর, নিজেই লিখেছেন! অনেকেই মারা গিয়েছিল। ‘খুনী দরোয়াজা’ দেখেছেন? নাদির শাহের কীর্তি। আরবের রক্ত লিপ্সার সংস্কৃতির প্রমাণ ৯/১১-র ঘটনা।“

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে রামপুরহাটে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, পুলিশের সামনেই সেই ঘটনা ঘটেছিল।
আজ নিহতদের আত্মীয়-স্বজন বলেছেন, আগুন লাগানোর আগে তাদের কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। তারপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে আরব সাংস্কৃতি বলে বর্ননা করছেন দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আরবদের যে প্রকৃত সংস্কৃতি ছিল অর্থাৎ কুরেশদের যে সংস্কৃতি, তা ধ্বংস করে এক নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেটাকেই আমরা আরব সংস্কৃতি বলি। তারপর আরব থেকে যেসব আক্রমণ ভারতে এসেছিল এবং যে সংস্কৃতি তারা প্রতিষ্ঠা করেছিল অর্থাৎ গণহত্যা, লুটপাট, ভারতের মানুষকে দাস-দাসী বানিয়ে তাদের বিদেশে বিক্রি করা– এটাই আরব সংস্কৃতি।মহম্মদ বিন কাসিম, সুলতান মাহমুদ, তৈমুর লঙ এবং মোগলদের মাধ্যমে আরবে জন্ম নেওয়া এই সংস্কৃতি ভারতে আমদানি হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *