স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৪ আগস্ট: শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরপর চারটি বিষধর সাপ উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য গোটা শান্তিপুরে। উল্লেখ্য, গতকালই শান্তিপুরের ফুলিয়া পাড়া এলাকায় বিষধর কালাচ সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় সাত মাস বয়সী এক শিশু কন্যার। এই ঘটনায় পরিবারসহ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া পাশাপাশি আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতে আবারও শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হল পরপর চারটি বিষধর সাপ। শনিবার সকাল নাগাদ শান্তিপুর বাইগাছি পাড়া এলাকার এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ। এর পরেই ঠিক তার পার্শ্ববর্তী এলাকা বাইগাছি সেনপাড়ার এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিষধর গোখরো সাপ। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে শান্তিপুর চর সারাগর এলাকার এক গৃহস্থের বাড়ির মাছ ধরার জালে আটকে থাকা প্রমাণ সাইজের বিষধর গোখরো সাপ উদ্ধার হয়। আবার তার কিছুটা সময় বাদেই শান্তিপুর ব্লকের বাগআঁচড়া ঢাকা পাড়া এলাকার এক গৃহস্থের বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় আবারও প্রমাণ সাইজের বিষধর গোখরো সাপ। মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যেই একের পর এক বিষধর সাপ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পাশাপাশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা শান্তিপুরে।

প্রত্যেকটি জায়গায় বিষধর সাপগুলি উদ্ধারের জন্য পৌঁছায় শান্তিপুরের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী অনুপম সাহা। যদিও প্রত্যেকটি গৃহস্থ বাড়ির সদস্যরা বনদপ্তরে ফোন করলে সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি বনদপ্তরের কর্মীরা। সেই কারণেই বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী অনুপম সাহার প্রচেষ্টায় উদ্ধার হয় পরপর চারটি বিষধর সাপ। সাধারণ মানুষকে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য উদ্ধারকারী অনুপম সাহা সতর্কবার্তা দেন। বিষধর সাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে গেলে নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অন্ধকার জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে, বাড়িঘর জঞ্জালমুক্ত রাখতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ভালো করে বিছানা বালিশ পরিষ্কার করে মশারি ব্যবহার করতে হবে। না হলে বিষধর সাপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।


