পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হিন্দুরা, ৩৫০০ গ্রামে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত, দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৪ মে: ২ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে রাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছে হিন্দুরা। এখন পর্যন্ত রাজ্যে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গ্রামে হামলা চালানো হয়েছে। ৪০ হাজারেরও বেশি হিন্দু আক্রান্ত হয়েছে। এই দাবি করলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিলিন্দ পরান্ডে। এ ব্যাপারে তিনি রাজ্য সরকারকে কর্তব্য পালনের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এক প্রেস বিবৃতিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছেন, ভোটের পর থেকে অত্যাচারিত হচ্ছে হিন্দুরা। ভিএইচপি’র দাবি, এখনো পর্যন্ত ৩৫০০–র বেশি গ্রামে আক্রমণ করা হয়েছে। এর ফলে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে তপশিলি জাতি এবং উপজাতির মানুষই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। বহু জায়গায় মহিলাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট এবং বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, লুটপাট চালানো হয়েছে। পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে।

মিলিন্দ পরান্ডের অভিযোগ, টানা ভয়াবহ পাশবিক হিংসা চলছে অথচ প্রশাসন উদাসীন। রাজ্য সরকারের প্রতি তাঁর পরামর্শ, স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিক সরকার এবং দাঙ্গাকারীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করুক। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, বহু জায়গায় বিরোধীদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেসব পুনরুদ্ধার করে তাদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোটের পর থেকে নিজের রাজ্যে শরণার্থীর মতো অপমানের জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন হিন্দুরা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং অন্যান্য সংস্থা সেই অসহায় মানুষদের খাদ্য এবং অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সেবা কাজ করছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং এই আক্রমণের নিন্দা করার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *