জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩০ জুন: চন্দ্রকোনা শহরের বড়ো অস্তলের ঝুলন ও রথ এলাকার প্রাচীন এবং বড়ো উৎসব হিসেবে পরিচিত। ঝুলন ও রথ যাত্রায় এখানে বহু মানুষের সমাগম হয়।
এখানকার নয়াগঞ্জে আনুমানিক সাত-আটশো বছরের পুরনো একটি বড়ো অস্তলের মন্দির রয়েছে। তৎকালীন বর্ধমান রাজার আমলে এলাকায় বহু মন্দির স্থাপিত হয়। সেই সমস্ত মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বড় অস্তলে রামানুজ সম্প্রদায়ের এই মন্দির। ১৪৪০ খ্রীষ্টাব্দের আগেই রামানুজ সম্প্রদায়ের স্বরূপ রামানুজ দাস আচারি বড়ো অস্তল মন্দির স্থাপন করেছিলেন। অষ্টধাতুর তৈরি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে এই মন্দিরে। প্রতিবছরই ধুমধামের সঙ্গে পুজোর পর বহু মানুষ শোভাযাত্রা করে রথ টানে। বড় অস্তল থেকে রথ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার ঠাকুরবাড়ি বাজারের মাসির বাড়িতে। সেখানে আট দিন থাকার পর উল্টো রথে ফের শোভাযাত্রা করে একই পথে নয়াগঞ্জের বড় অস্তলে আনা হয়।
বর্তমান মহারাজ সৌমেন রামানুজ দাস আচারি জানান, চন্দ্রকোনার এই বড় অস্তলের সঙ্গে সংযোগ আছে চন্দ্রকোনার ঝাঁকরা ও আনন্দপুর থানার খেতুয়া ও কালীপুরের রথের। রথের দিন বড় অস্তল থেকে বিষ্ণু বিগ্রহ নিয়ে গেলে তবেই বাকি ওই দুই জায়গায় পূজার্চনা শুরু করা হয়। কোভিডের জেরে দু’বছর বন্ধ ছিল এই রথযাত্রা। এবার সমস্ত রীতিনীতি মেনে ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়েছে চন্দ্রকোনার ঐতিহ্যের ৭০০ বছরের পুরনো রথযাত্রা উৎসব।

