স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদিয়া এবং স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২৮ অক্টোবর:
নবদ্বীপ ধাম ও মায়াপুর তীর্থযাত্রা করতে যাওয়ার পথেই এক নিমেষের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানার জামবাড়ি কালীবাড়ি এলাকার রায় পরিবারের। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল পরিবারের পাঁচ সদস্যের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার তিনচারা সংলগ্ন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নাকাশিপাড়া থানার তিনচারা সংলগ্ন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর একটি ছোট গাড়ির সঙ্গে একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় গাড়ির সামনের অংশটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের কারণে ছোট গাড়িটি ছিটকে রাস্তার ধারের একটি গাড্ডায় গিয়ে পড়ে। সাত সকালে প্রচণ্ড জোরে বিকট আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে আহত অবস্থায় রয়েছে ছোট গাড়ির যাত্রীরা। স্থানীয় নাকাশিপাড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ওই পাঁচ জনকে উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রত্যেককেই মৃত ঘোষণা করে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর ফলে ৩৪ নং জাতীয় সরকার উপর যান চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে একটি ক্রেন নিয়ে আসা হয় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় ৩৪ নং জাতীয় সড়কে। দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পাঁচজনের এভাবে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এমনকি জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রায়গঞ্জ থানার জামবাড়ি এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিবার। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবার সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার ভোর তিনটে নাগাদ নবদ্বীপ ধামের উদ্দেশ্যে একটি প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে রওনা হন জামবাড়ির বাসিন্দা বিদ্যুৎ রায় ( ৩৮), বিদ্যুৎ বাবুর মা পারুল রায় ( ৬৮), দুই ছেলে আয়ুষ্মান ( ৫) ও অর্কপন্ন ( ১০) এবং বিদ্যুৎ বাবুর মামা মুকুল সরকার ( ৫৬)।
বৈষ্ণব ধর্মালম্বী এই পরিবার মায়াপুরে গুরুদেবের বাড়ির উদ্যেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিল নবদ্বীপ ধাম দর্শনের। কিন্তু মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কেই থেমে গেল তাঁদের তীর্থযাত্রা।

দুর্ঘটনার খবর রায়গঞ্জের জামবাড়ি গ্রামে আসতেই কান্নার রোল ওঠে গোটা গ্রামজুড়ে। মৃত বিদ্যুৎ রায়ের দাদা স্বপন কুমার রায় বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছিল যে শুক্রবার ভোরবেলাতেই মা ও অন্যান্যদের নিয়ে গাড়িতে করে রওনা হবে। ভোর তিনটে নাগাদ তারাও বেড়িয়ে পড়ে। এরপর সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আমি খবর পাই নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ভাইদের গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। খবর পান তাঁরা আর কেউই বেঁচে নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা গ্রাম।

