করোনার কারণে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বন্ধ থাকায় অবিক্রিত কালিয়াগঞ্জের কুনোর হাটপাড়ার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটার গয়না, সমস্যায় শিল্পীরা

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১১ মে:
রাজ্য ও ভিনিরাজ্যেও চাহিদা প্রচুর, অতিমারি করোনার কারণে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বন্ধ থাকায় অবিক্রিত অবস্থাতেই পড়ে থাকছে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের কুনোর হাটপাড়ার ঐতিহ্যবাহী বর্ণময় টেরাকোটার তৈরি মাটির গয়না। টেরাকোটা শিল্পীরা কঠোর পরিশ্রম করে নিপুন হাতের ছোঁয়ায় মহিলাদের অলঙ্কার তৈরি করে চলেছেন। কিন্তু একবছরের উপর ধরে চলা লকডাউন আর ভয়াবহ অতিমারি করোনার কারণে সরকারি বেসরকারি সমস্ত হস্তশিল্প মেলা থেকে শুরু করে প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে থাকায় তাঁদের শিল্পকলা পড়ে রয়েছে ঘরবন্দি হয়েই। ফলে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের কুনোরের হাটপাড়ার টেরাকোটা শিল্পীদের। কিন্তু নেশা আর পেশার কারণে আজও তাঁরা অবিরাম গড়ে চলেছেন টেরাকোটার মাটির গয়না।

তৈরি মাটির কিন্তু দেখতে হার মানিয়ে দেয় সোনা কিংবা রূপোর গয়নাকেও। এমনই হাল ফ্যাশানের টেরাকোটার মাটির গয়না বছরের পর বছর ধরে তৈরি করে চলেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের কুনোরের হাটপাড়া গ্রামের দুলাল রায়, সমরেশ চন্দ্র রায় সহ কয়েকশো পরিবার। মাটির অথচ হালকা এবং আধুনিক ডিজাইনের মহিলাদের এই গয়নার চাহিদা এখন দেশজুড়ে তুঙ্গে। জেলা তো বটেই, জেলার বাইরে কলকাতায় এই মাটির তৈরি টেরাকোটার গয়নার চাহিদা ব্যাপক। ভিনরাজ্য যেমন মুম্বই, দিল্লি ও চেন্নাইতেও পাড়ি দেয় এইসব শিল্পীদের তৈরি গয়না। জেলা বা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি মেলাগুলোতে, প্রদর্শনীতে এই গয়না বিক্রি করেন শিল্পীরা। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এমনকি চেন্নাই থেকেও পাইকারেরা এই গ্রামে এসে পাইকারি হারে অভূতপূর্ব আধুনিক ডিজাইনের মাটির টেরাকোটার গয়না কিনে নিয়ে যান। মাঝে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও আফ্রিকার মতো দেশেও রপ্তানি হয়েছে এই গয়না। কিন্তু অতিমারি করোনার কোপে পথে বসে গিয়েছেন এইসব টেরাকোটা শিল্পীরা। প্রায় বছর খানেক ধরে কোথাও নেই কোনও সরকারি বা বেসরকারি মেলা বা প্রদর্শনী যেখানে তাঁরা তাদের নির্মিত সামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন। আবার করোনা আর লকডাউনের কারণে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভেঙে পড়ায় ভিনরাজ্যেও পাঠাতে পারছেন না মাটির তৈরি সুদৃশ্য গয়না। পাইকারেরাও করোনা আবহে ভিনরাজ্য থেকে আসতেও পারছেন না। আর এবার তো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মানুষকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের ব্যাবসা। তবে পেশা ও নেশার কারণে কিন্তু শিল্পীরা আজও নিরলস পরিশ্রম করে নিপুন হাতের ছোঁয়ায় একের পর এক তৈরি করে চলেছেন গলার নেকলেস থেকে হাতের কঙ্কন কিংবা কানের দুল থেকে অনামিকার আংটি। আশা একদিন ঝড় থামবেই, পৃথিবী আবার শান্ত হবে। আর তাঁরাও আয় উন্নতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবেন তাঁদের জাতিগত পেশায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *