জে মাহাতো, নন্দীগ্রাম, ৯ মার্চ:
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নন্দীগ্রাম জুড়ে ছিল চাপা উত্তেজনা। কারণ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুপুরে নন্দীগ্রামের স্টেট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টারে নামবেন l ‘যুদ্ধের’ ময়দান নন্দীগ্রামে এর আগেও তিনি এসেছেন ঠিকই তবে এ বারের তাঁর আসাটা ভোট যুদ্ধে নিজেকে বাজি রাখতে আসা। মঙ্গলবার দুপুরের পর নন্দীগ্রামের অস্থায়ী হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে তিনি এসে পৌঁছান। সেখানে কর্মিসভায় যোগ দেন।
ছোট একটি মঞ্চ থেকে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্য রাখেনl সামনের খোলা অংশে হাজার চারেক মানুষের বসার ব্যবস্থা হয়। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ আবু তাহের কর্মিসভার তদারকি করছিলেনl তিনি বলেন, দলনেত্রী যে কর্মিসভায় যোগ দেবেন সেখানে বুথ কমিটি, অঞ্চল কমিটি, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত সদস্য, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রায় ৮ হাজার নেতাকর্মীকে ডাকা হয়েছে। নন্দীগ্রামে এখনো সেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছয়নি l সেজন্য সভাস্থলে পুলিশ বাহিনী ও সিভিক ভলান্টিয়ার্স মোতায়েন করা হয়। দলনেত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে আগে দলীয় পতাকা রাস্তাঘাট যেভাবে মুড়ে ফেলা হতো এবার তা করা হয়নি বলে জেলা তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে।
শুধু মাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগানো কয়েকটা ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছিল সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের কাছেl তাতে জ্বলজ্বল করছে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’।
নন্দীগ্রাম যুদ্ধে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন সেখানকার আন্দোলনের আরেক মুখ শেখ সুফিয়ানl তিনি বলেন, নেত্রী পৌঁছানোর আগে নন্দীগ্রামে পৌঁছেছেন তার তিন প্রতিনিধি সুব্রত বক্সি, পূর্ণেন্দু বসু এবং দোলা সেন। তাঁরা সকালবেলা সভাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিন বিকেলে সভা শেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

সভার সময় বেলা আড়াইটেয় মাঠ ভরে যায়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি নন্দীগ্রামের পাশে ছিলাম আছি এবং থাকব l আপনারা যেভাবে আমাদের আশীর্বাদ করেছেন সেভাবেই এবারও আশীর্বাদ করবেনl ভুলতে পারি হাজার নাম ভুলবো নাকো নন্দীগ্রামl নির্বাচনে যার যা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার নির্দেশ দেন দলনেত্রীl
আগামীকাল বুধবার হলদিয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেনl

