শহিদ স্মরণ যাত্রা ঘিরে উত্তেজনা মধ্যমগ্রামে, গ্রেফতার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর

প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৭ আগস্ট: বিজেপির শহিদ স্মরণ যাত্রা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল বারাসাত-মধ্যমগ্রাম চত্বরে। এই যাত্রাকে সফল করতে গিয়ে অবশেষে গ্রেফতার হতে হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে।

শহিদ যাত্রা দিবস উপলক্ষ্যে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর দমদম থেকে তার যাত্রা শুরু করেন। তার যাত্রা কর্মসূচির প্রথমে তিনি মধ্যমগ্রাম বিরাটির গৌড়িবাড়ি কালি মন্দিরে পুজো দিয়ে শহিদ যাত্রা শুরু করেন। এই যাত্রা অনুযায়ী আজ শান্তনু ঠাকুর উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর, জগদ্দল, ভাটপাড়া, নাদিয়াতে যেসমস্ত বিজেপি কর্মী ভোটের ফল বেরনোর পর রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন তাদের বাড়ি যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তনু ঠাকুর মধ্যমগ্রাম গৌরী বাড়ি কালি মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। পুজোর দেওয়ার পর তার যাত্রা পুনরায় শুরু করবার কথা থাকলেও তিনি পুজো দিয়ে বেরলে তাকে ও তার সাথে থাকা বিজেপি কর্মীদের যাত্রাকে আটকে দেয় পুলিশ প্রশাসন। এরপর শুরু হয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও তার সাথে থাকা বিজেপির অন্যান্য কর্যকর্তারা সঙ্গে পুলিশের উতপ্ত বাক্য বিনিময়। বেলা ১১টা থেকে মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও তার সাথে থাকা বিজেপির অন্যান্য কার্যকর্তারা গৌরী বাড়ি মন্দিরের সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান বিক্ষোভ করেন। অতিমারির কথা ঘোষণা করে পুলিশ বারবার শান্তনু ঠাকুর ও বিজেপি কর্মীদের ফিরে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু তারা তা না মেনে বিক্ষোভ জমায়েত চালিয়ে যায়। অবশেষে শান্তনু ঠাকুর ও বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর ফলে বিজেপির কর্মসূচি বিফল হয়।

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, “এই রাজ্যে তালিবানি শাসন চলছে। পুলিশি রাজ চলছে। এখানে কোনও আইনের শাসন
নেই।”

এদিন এয়ারপোর্ট থানার সামনে বসে জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “কাবুলে তালিবানরা বন্দুক হাতে রাজত্ব করছে আর এই রাজ্যেও তেমন তালিবানি শাসন চলছে। আসলে তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের ভয় পাচ্ছে বিরোধী দলকে কোনও জায়গা দিতে চাইছে না। কিন্তু এটা এই রাজ্যে কেন এই দেশে মানা হবে না।” তবে এদিন বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়ে দেন দলীয় আলোচনার পর বিজেপির পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। এদিন সকাল থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই শহিদ যাত্রা আটকাতে ব্যাপক পুলিশ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *