জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ মার্চ: শ্লোগান পাল্টা শ্লোগান। একদল ‘কয়লাচোর’ শ্লোগানে তেড়ে আসে। আবার আর এক দল সদ্য বগটুইয়ে গণহত্যা কান্ড নিয়ে তেড়ে যায়। তৃণমূল-বিজেপি দুই দল শ্লোগানের সম্মুখ সমর ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল লাউদোহার ঝাঁঝরা কোলিয়ারী এলাকায় বিজেপির কর্মিসভায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল কমব্যাট ফোর্স।
আগামী ১২ এপ্রিল আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচন। আর এই নির্বাচন ঘিরে তপ্ত খনি অঞ্চলের রাজনৈতিক ময়দান। কয়েকদিন আগের রামপুরহাটের বগটুই কান্ডে উত্তাল গোটা দেশের রাজনীতি। নিন্দার ঝড় বইছে সব মহলে। তার মধ্যে কয়েকদিন পান্ডবেশ্বরে তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিতর্কিত মন্তব্য ভাইরাল হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির। ইতিমধ্যে নরেন্দ্র চক্রবর্তীর নির্বাচনী প্রচারে ও প্রেস বিবৃতির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও ওই শাস্তিতে মোটেই সন্তুষ্ট নয় গেরুয়া শিবির।
বুধবার বিকালে লাউদোহার ঝাঁঝরা কোলিয়ারী এলাকায় একটি কমিউনিটি হলে বিজেপির কর্মিসভা ছিল। ওইসভায় উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি নাম না করে অভিষেক ব্যানার্জকে একহাত নিয়ে কড়া আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজধর্ম পালনের বার্তা দেন। এদিন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ওপর নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা জারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুবাবু বলেন, “নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বডি। তারা যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাকে স্বাগত। কিন্তু নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী যা অপরাধ করেছেন, তাতে শাস্তিটা অত্যন্ত লঘু হয়েছে। অবাধ, ভয়মুক্ত নির্বাচনের পরিবেশের জন্য এই লোকটাকে অন্তত ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত হাজতে রাখা উচিত ছিল। অতীতে এই লোকটা পিস্তল সহ ধরা পড়েছিল। এই লোকটার অতীত রের্কড যা আছে, তা দাউদ ইব্রাহিমের কাছাকাছি। এইরকম ক্রিমিনাল অবাধ সুষ্ঠ ভোটের পরিবেশের পরিপন্থী। নির্বাচন কমশনের শাস্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও সম্পুর্নভাবে খুশি হতে পারলাম না। আরও কঠিন শাস্তি র আশা করেছি।”
যদিও তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্র চক্রবর্তী নির্বাচন কমিশনের কোনও নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাননি বলে সাফাই দিয়েছেন।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী রামপুরহাট কান্ডে সিবিআই তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রীর মত কথা বলছেন। তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক কর্ত্রীর মত কথা বললে সিবিআইকে স্বাগত জানাতেন। ওইভাবে সিবিআই তদন্তকে ধমকাতেন না।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কাকে ধমকাচ্ছেন? বিচারবিভাগকে ধমাকাচ্ছেন তিনি। কেন্দ্র সরকার সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন না। মহামান্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিসন বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তার রাজধর্ম পালন না করে সিবিআইকে ধমকাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজধর্ম পালনের আবেদন জানাচ্ছি।”
এদিন তিনি কয়কাকান্ড নিয়ে আবারও অভিষেক ব্যানার্জিকে আক্রমন করেন। তিনি বলেন, “২০২১ সালে বারুইপুরে একটি চেকের রেপ্লিকা দেখিয়েছিলাম। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের কর্শিবান শাখায় ভাইপোর স্ত্রী রুচিরার অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন অনুপ মাঝির একাউন্ট থেকে হাজার হাজার টাকা সেদেশের ভাষায় ভ্যাট জমা হত। মাননীয় ভাইপো অনেকগুলো মামলা করেছিল। কিন্তু ওই চেক দেখানোর কোনও মামলা করেনি। তার মানে কয়লার টাকা সরাসরি গেছে। তাই কয়লার সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এদিকে বিজেপির কর্মিসভা শেষ হতেই একদল তৃণমূল কর্মীসমর্থক শুভেন্দু অধিকারী ও জিতেন্দ্র তেওয়ারীর দিকে কটূক্তির স্লোগান শুরু করে তেড়ে যায়। পাল্টা জিতেন্দ্র তেওয়ারী কয়লা চোর শ্লোগান দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যান। বিজেপিকর্মীরা রামপুরহাট কান্ড নিয়ে শ্লোগান শুরু করে। ফলে দুদলই সম্মুখ সমরে শ্লোগান লড়াই শুরু হয়। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স। প্রায় ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।

