আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৮ ডিসেম্বর: গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে রীতিমত চরম উত্তেজনা ছড়াল ঘোলার মানিকডাঙা সারদাপল্লীতে। এই হত্যার ঘটনায় সবর হয়েছেন গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যরা।বইতি মধ্যেই মৃতার অভিযুক্ত স্বামী গ্রেপ্তার হলেও শ্বশুর বাড়ির বাকিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
৪ মাস আগে ঘোলার বাসিন্দা আব্দুল মিঞার সাথে বিয়ে হয় সহেলি বিবির। আর তারপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন কারণে অশান্তি লেগেই থাকতো দু’জনের মধ্যে। গত ৫ তারিখ রাতে গৃহবধূ সহেলি বিবি মন্ডল ও তার স্বামী মিরাজ মন্ডলের মধ্যে গণ্ডগোল বাধে। তার পরেই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
অভিযোগ, এই অশান্তির জেরে মিরাজ তার স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে। এই অভিযোগ তুলেছে মৃতার বাপের বাড়ির আত্মীয়রা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মিরাজকে গ্রেপ্তার করে ঘোলা থানার পুলিশ। কিন্তু মৃতার বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ, স্বামী আব্দুল মিরাজ, ননদ রুবিনা ও শাশুড়ি সেরিনা বিবি মিলে তাদের মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে। এই ঘটনায় ঘোলা থানায় অভিযোগ জানানো হলেও বুধবার পর্যন্ত শুধু স্বামী আব্দুল মিরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু বাকি অভিযুক্তদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঘোলা থানার পুলিশ। আর তারই প্রতিবাদে আজ সারদাপল্লীতে স্বামী আব্দুল মিরাজের জলের কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পাশাপাশি কারখানায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুল মিরাজের একটি মিনি ট্রাকেও ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালানো হয়।

মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা এদিন অভিযোগ করে বলেন, “গত ৪ মাস সহেলি ও মিরাজের বিয়ে হয়েছিল। আর তার থেকেই অশান্তি লেগে থাকত তাদের পরিবারে। আমাদের মেয়েকে মেনে নিত না ওর ননদ। খুব অশান্তি করত। আর ওকে মেরে ফেলার আগে ওই ননদ এসেছিল ওদের বাড়িতে। আর এই নিয়েই আবার স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। আর সেই ঝামেলা থেকেই ওরা আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমরা ওদের সকলের শাস্তি চাই।”
তবে এই ঘটনায় ঘোলার মানিকডাঙ্গা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে দ্রুত ঘোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়। এখনো বাকি অভিযুক্তরা অধরা রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

