সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৬ আগস্ট: পুরুলিয়া শহরের কাছে লাগদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। ওই কেন্দ্রে ৩৫০টি ভ্যাকসিন বরাদ্দ আর সেই মুহূর্তে প্রায় ২০০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এই পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই উপস্থিত জনতা না ভ্যাকসিন পাওয়ার আশঙ্কায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে পুলিশ কর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মীরা ভিতর থেকে তালা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ভ্যাক্সিন দেওয়া শুরু করা যায়নি।
এদিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকা মাগুড়িয়া গ্রামের শ্যামলী সর্দার জানান, “বৃহস্পতিবার রাত ন’টা থেকে লাইনে থেকেও ভ্যাকসিন পেলাম না”। রামনগর গ্রামের ময়না মাহাতো বলেন, “রাত ১২ টা থেকে এসেও ভ্যাকসিন না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। কবে ভ্যাকসিন পাবো জানি না। এদিন বেশির ভাগ মানুষই প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য জমায়েত হন ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা পর পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিওর হস্তক্ষেপে স্থানীয় লাগদা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ময়ূর বাহন ঘোষাল গিয়ে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তালা খোলান। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে ও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়।

এই ঘটনার বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: অনিল দত্ত বলেন, “সরবরাহের সংখ্যা কম থাকায় একসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই কেন্দ্রে আজ ৩৫০টি ভ্যাকসিন বরাদ্দ করা হয়। আমরা পরের দিন নথিভুক্তদের সবাইকে দিয়ে দেব। ধৈর্য ধরতে হবে।”
সচেতনতার অভাব দেখা গিয়েছে ভ্যাকসিন প্রাপকদের মধ্যে। প্রায় দু’হাজার মানুষ মাস্ক মুখে না নিয়েই লাইন দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করতেই অনেকে তড়িঘড়ি মাস্ক মুখে দেন। তবুও সামাজিক দূরত্ব বিধি নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জমায়েত করেন মানুষ।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “প্রায় দু বছর ধরে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। তবুও কিছু মানুষ মাস্ক ছাড়াই লাইনে থাকছেন, জমায়েত হচ্ছেন।”


