প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৩ নভেম্বর: রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সোদপুরের সুখচর সুভায়িনী হাসপাতালে। হাবড়া অশোকনগরের বাসিন্দা ৫১ বছরের তাপস সাহা গাছে নারকেল পাড়তে ওঠেন। সেই সময় গাছ থেকে তিনি পড়ে যান। তার মাথায়, বুকে ও পায়ে সাংঘাতিক আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পর কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিং হোমে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে অসুস্থ রঞ্জন বাবুর অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানে তার অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসক জানায় যে তাপস বাবুর প্রাণ সংশয় আর নেই।
তবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য অনেক বিল হয়, কিন্তু সেই টাকা মেটানোর মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। তাই অর্থের অভাবে সেখানকার চিকিৎসক সোদপুর সুখচর সুভায়িনী হাসপাতালে তাপসবাবুকে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। শুক্রবার তাপস বাবুকে তার বাড়ির লোকজন সুভায়িনী হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। আর এই মৃত্যুর ঘটনায় ওই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের সামনে তার পরিবারের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এর আগেও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠেছে। কেন বার বার চিকিৎসায় গাফিলতির ফলে এই হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের সামনে খড়দহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিন মৃত রোগীর আত্মীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের রোগী মারা যাওয়ার মত অবস্থায় ছিল না। আমরা যে হাসপাতালে রোগীকে আগে রেখেছিলাম সেখানকার ডাক্তাররা আশ্বাস দেওয়ায় আমরা এইখানে স্থানান্তরিত করে এনেছিলাম। এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একবারও বলেনি যে ওনারা আমাদের রোগীর চিকিৎসা করতে পারবেন না। এখানে সঠিক ভাবে চিকিৎসা করা হয়নি। বিনা চিকিৎসায় আমাদের রোগীকে মেরে ফেলেছে। আমরা চাই এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কড়া শাস্তি হোক।”
এই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

