আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৬ এপ্রিল: টিটাগড়ের বাসিন্দা জুলি কুমারী (১৮) টিটাগড় আর বিদ্যালয় থেকে এ বছর উচ্চমাধমিক পরিক্ষা দিচ্ছে। গত ৩ তারিখ রবিবার আচমকা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয় জুলির। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সোদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর তার রক্তের প্রয়োজন আছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর আত্মীয়দের জানান। রোগীর চিকিৎসার জন্য পরিবারের তরফ থেকে দু’বোতল রক্ত জোগাড় করে দেওয়া হয়। যদিও পরিবারের অভিযোগ, সেই রক্ত রোগীকে দেওয়া হয়নি। গত পরশু দিন অর্থাৎ সোমবার এই হাসপাতালে বসেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় জুলি কুমারী।

এরপর আজ সকালবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে রোগীর পরিবারকে জানানো হয়, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং দ্রুত তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য হাসপাতালের তরফ থেকেও জানানো হয়। এরপর রোগীর পরিবার রোগীকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা জুলিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগ সাগর দত্ত হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার এক ঘন্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে অসুস্থ জুলির। এরপরই রোগীর পরিবার সোদপুরে ওই বেসরকারি হাসপাতালের সামনে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যার জেরে হাসপাতালের সামনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। মৃতার আত্মীয়দের মূলত অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং রোগীকে স্থানান্তরিত করায় বিলম্ব হওয়ার জন্যই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতার আত্মীয়দের বলেন, “আমাদের মেয়ের শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল এখানে ভর্তি করলাম। দুই বোতল রক্ত আনতে বলা হল, সেটাও, দিলাম কিন্তু আমাদের রোগীকে সেই রক্ত দেওয়া হয়নি। সোমবার এই হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিল, কিন্তু আজ ফোন করে বলা হল যে আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ ওকে সাগর দত্ত হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে। আমরা যখন এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি তখনই আমার মেয়ের কথা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ঝিমিয়ে পড়েছিল আমরা এখানকার ডাক্তারদের বার বার বললাম ভালো করে দেখতে ওরা অবস্থা খারাপ বলে ছেড়ে দিল আর সাগর দত্ত হাসপাতাল বললো আমাদের রোগী আগেই মারা গেছে। এরা ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছে। আমরা বিচার চাই।”
যদিও মৃত রোগীর আত্মীয়দের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে।

