স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১২ জুলাই: প্রতিনিয়ত শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কারণে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হলেন সেই গৃহবধূ। মৃতদেহ হাসপাতালে দেখতে এসে গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের গণপ্রহারে গুরুতর আহত শ্বশুর। ঘটনাটি শান্তিপুর থানার রামনগর পাড়া এলাকার।
জানা যায় মৃত গৃহবধূর নাম সাধনা ব্রাহ্মণ, বয়স আনুমানিক কুড়ি বছর। গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রতিনিয়ত অত্যাচার করত তাদের মেয়েকে। বেশ কয়েকবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয় তাদের মেয়ে। যদিও মেয়ের বাড়ির লোকজনরা বুঝিয়ে শুনিয়ে আবারও শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসে ওই গৃহবধুকে। অভিযোগ তিনদিন আগে আবারও অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে। তারপর ওই গৃহবধূ শান্তিপুরের ঘোড়ালিয়া কুন্ডু পাড়ায় বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। সোমবার রাত ৯.৩০টা নাগাদ ওই গৃহবধূ বাবার বাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। সেই সময় মেয়ের পরিবারের লোকজনরা বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়িতে এসে দেখে তাদের মেয়ে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাড়াতাড়ি শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।
এরপরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ক্ষোভ সৃষ্টি হয় মেয়ের বাড়ির লোকজনদের মধ্যে। সেই সময় মেয়ের শ্বশুর শান্তিপুর হাসপাতালে এসে পৌঁছন। এরপরেই মেয়ের বাড়ির লোকজনদের গণপ্রহারে গুরুতর আহত হন শ্বশুর। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। মেয়ের আত্মঘাতীর ঘটনায় পরিবারের লোকজন অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কারণে আত্মঘাতী বলে দাবি করছেন গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজন।

