জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর: বৃষ্টি ও বন্যার প্রকোপে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার মৃত্যু হয়েছিল সাত জনের। শুক্রবার দুই মহিলাসহ আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দশ। শুক্রবার ভোরে সবংয়ের সাবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বনাই গ্রামের বৃদ্ধা রাজবালা করের দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে। বন্যার জলে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে নন্দপুরা গ্রামের মেনকা সিঙ্গিয়ার (৪৫)।
এছাড়াও বেলদা থানা এলাকার বাঘুই খাল থেকে বন্যার জলে ভেসে যাওয়া কালিপদ মাইতির (৪৫) মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার বাড়ি হেমচন্দ্র গ্রামে। শুক্রবার তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। কেলেঘাই বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে খড়গপুর মহাকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। কপালেশ্বরী ও কেলেঘাই নদীর একাধিক ফাটল দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। আরও বড়সড় বিপর্যয়ের প্রহর গুনছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। সবং, ডেবরা, পিংলা, নারায়ণগড় মিলিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ বন্যাদুর্গত। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণের কাজ করছে এনডিআরএফ। ইতিমধ্যে এক লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিবছর নদী বাঁধ সংস্কারের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয় তা কোথায় যায়? বালির বাঁধ দিয়ে আর কতদিন চলবে? সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা বলেন, দেড় দশক পর এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এবার নদী দুটির আমূল সংস্কার প্রয়োজন। নদী বাঁধ সংস্কার কবে হবে সেই বিতর্কের মাঝখানেই বন্যায় সবংয়ের দুই মহিলার এবং বেলদায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মৃত্যু হয়েছিল সাত জনের। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দশে।

