আমাদের ভারত, ২৩ জুন: আদালতের রায়ের পর পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে একসঙ্গে ৮০০ কোম্পানি চেয়ে পাঠানো হলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৩১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এইপর ফের ৪৮৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে কমিশন চিঠি দেবে বলে জানাগেছে। কিন্তু রাজ্য ও কমিশনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, এক দফার বদলে একাধিক দফায় ভোট করালেই কেন্দ্রীয় সরকার পাঠানো বাহিনীতে হয়ে যাবে। কিভাবে আদালতের রায় বলবৎ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা দরকার তার জন্য বুদ্ধি খরচ করলেই হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ আদালতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল বলেছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন ২০১৩-র মডেল অনুসরণ করলেই কেন্দ্রের পাঠানো বাহিনীতে ভোট সুষ্ঠু ভাবে করা সম্ভব।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, বিজেপির তরফে একাধিকবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করা হয়েছিল। যেখানে ৮০০ কোম্পানি চাওয়া হয়েছিল সেখানে ৩০০ কোম্পানি পাঠানো হয়েছে। এবার সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীদের লাফালাফি কোথায় গেল? ওরা এবার অমিত শাহকে গিয়ে বলুক বাহিনী দেওয়ার জন্য।
এর পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমরা চাইছি আদালত যা বলেছে তাই কার্যকর হোক। সব জায়গায় সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে হবে এবং এই কেন্দ্রীয় বাহিনী ২০১৩ তে যা ছিল তার থেকে বেশি হতে হবে অর্থাৎ ৮৫ হাজারের বেশি হতে হবে। কারণ ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে জনসংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, লজিক্যালি দেখতে গেলে কেন্দ্র সরকারের পক্ষে কখনোই ৮০০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো সম্ভব নয়। কারণ তাহলে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব সহ উত্তর পূর্বে যেখানে একটু সমস্যা রয়েছে সেখান থেকে বাহিনী তুলে নিতে হবে যা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে যদি সব জায়গায় বাহিনীকে ব্যবহার করতে হয় তাহলে এক দফায় ভোট কখনোই সম্ভব নয়। একাধিক দফা বা ৫ দফায় ভোট করতে হবে।
বাহিনী পাঠানোর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাহিনী ঠিক যে সংখ্যায় দেওয়া সম্ভব সেই সংখ্যাতেই কেন্দ্রীয় সরকার দেবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে যদি বলা হয় ৭২ হাজার পুলিশ দিন সেটা সম্ভব নয়। কারণ ৪৮ হাজার পুলিশ রয়েছে। অন্যদিকে আর একটা তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিনদিনের ট্রেনিং নেওয়া পুলিশকে ভোটের কাজে নামিয়ে দিচ্ছে। তাঁর কথায়, এই ধরণের কাজ কখনোই কেন্দ্র সরকার করতে পারে না। সুকান্তবাবু জানান, এরকম ৮০০০ পুলিশ কর্মী যাদের তিন দিনের ট্রেনিং দিয়ে ভোটে নামানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটা করলেও কেন্দ্র সরকার এই ধরণের জালিয়াতির কাজ করতে পারে না।
কমিশনের তরফে ৮২২ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে কি আসলে কেন্দ্রকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরের সুকান্ত মজুমদার বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক ইস্যু এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপ। ৩২২ কোম্পানিকে তিন ভাগে অথবা চার ভাগে ব্যবহার করুন। তাহলেই বারোশো কোম্পানি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কমিশনের কাছে, আপনার কাছে কিন্তু বিকল্প রয়েছে, চার দফায় ভোট করালেই এটা ১২০০ কোম্পানি হয়ে যায়, কেন্দ্র সরকার সঠিক কোম্পানি দিয়েছে। কমিশন সেটা ব্যবহার করতে পারছেন না। ৩২২ কোম্পানিকে কিভাবে ৮২২ করতে হয় তার বুদ্ধি থাকতে হবে। এই বুদ্ধি যদি কমিশনের না থাকে বা দুর্বুদ্ধি দিয়ে যদি ঢাকা থাকে তাহলে কেন্দ্রের কি করার আছে? কুনাল বাবুকে বলবেন তিন দিয়ে গুণ করলে পরেই হয়ে যায়। “

