স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩০ এপ্রিল: চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলো তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাপস সাহার আপ্তসহায়ক প্রবীর কয়াল সহ তিন জনকে গ্রেফতার করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে।
সুত্রের খবর, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপসের আপ্তসহায়ক প্রবীর এবং তাঁর দুই সঙ্গী শ্যামল কয়াল ও সুনীল মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন প্রবীর। শনিবার প্রবীরের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাচক্রে তেহট্ট থানায় কিছুক্ষণ সময় কাটাতে হয় তাপস সাহাকে। তাপস সাহা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছিল তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহার বিরুদ্ধে। এ বার তা প্রকাশ্যে এল।
প্রতারিতদের তালিকায় রয়েছেন তাপসের এক ভাগ্নে। শুধু তাই নয়, চাকরি পেতে তাপসকে টাকা দিয়েছিলেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কল্লোল খাঁর জামাইও। এমনটাই অভিযোগ ওঠে তাপস সাহার বিরুদ্ধে। তাপস সাহার ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে দয়েরবাজার এলাকার বাসিন্দা শুভ সাহা দাবি করেন, পলাশিপাড়ার বিধায়ক থাকা কালীন মামা চাকরি দেওয়ার নাম করে ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। এতোগুলি বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চাকরিও পাইনি আর টাকাও ফেরত পাইনি।
অন্যদিকে তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কল্লোল খাঁ-এর ভাই হিল্লোল খাঁ’র জামাই সৌম্য নন্দি অভিযোগ করেন, “তিনি চাকরির ব্যাপারে তাপস সাহাকে সাহায্য করার কথা বলার পর তিনি প্রবীর কয়াল নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর কথা মত আমি প্রাথমিকে চাকরির পরীক্ষার অ্যাডমিট ও বাকি নথিপত্র তুলে দিই। এরপর তিনি চাকরি করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। একসাথে না পারলে কিস্তিতে দেওয়ার কথা বললে আমি প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এরপর সময় গড়িয়ে গেলেও টাকাও ফেরত পায়নি আর চাকরিও পাইনি।
এছাড়াও তেহট্ট, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া সহ বেশকিছু জায়গার বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাপস সাহার বিরুদ্ধে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছেন তিনি।

