আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২১ নভেম্বর: দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সম্পাদক মইদুল ইসলাম ও বিকাশভবনের সামনে তৃণমূল সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে বিষপানকারী শিক্ষিকারা অবশেষে যোগ দিলেন তৃণমূলে। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন ও বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেন এই শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে ব্রাত্য বসু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যসভার সাংসদ তথা তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, রাজ্যের পরিবহণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল, বজবজের বিধায়ক অশোক দেব সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন ডায়মন্ড টকিজ হলে ডায়মন্ড হারবার টাউন তৃণমূল কংগ্রেস ও ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিক জেলার বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর হাত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে নেন রাজ্যের শিক্ষক ঐক্য মুক্তমঞ্চের সম্পাদক মইদুল ইসলাম ও বিকাশ ভবনের সামনে বিষপানকারী ৫ জন শিক্ষিকা সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষক সংগঠন একাধিক আন্দোলন করেছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। কালিঘাটে গঙ্গায় নেমে আন্দোলন, বিকাশ ভবনের সামনে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা সহ নানা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এই শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। অবশেষে তাঁরা যেন রণে ভঙ্গ দিলেন। এদিন সমস্ত বিবাদ ভুলে তৃণমূলের পতাকা তলে নিজেরা আত্মসমর্পণ করলেন।
মইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যে যে দাবি ছিল যার জন্য আমরা আন্দোলন করছিলাম। সেই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষের জন্য একের পর এক জনমুখী প্রকল্প করছেন তাতে অনুপ্রানিত হয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ব্রাত্য বসু বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক জনমুখী প্রকল্প এঁদের উদ্বুদ্ধ করেছে। পাশাপাশি এঁদের যে সমস্ত সমস্যা, চাহিদা রয়েছে সেগুলি সরকারের সাথে আলোচনা করে যাতে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করা হবে।”

