আমাদের ভারত, ১২ জুন: করোনা ওষুধ চিকিৎসা সরঞ্জাম সহ অন্যান্য সামগ্রীর উপর কর কমালো জিএসটি কাউন্সিল। ব্ল্যাকফাংগাসের দুটি ওষুধ করমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এর নেতৃত্বে ৪৪ তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে কোভিড চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্য ওষুধে কর ছাড়ের মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশ করেছিল করোনার ওষুধ তথা ব্যবহৃত পণ্যে কর ছাড় দেওয়া হোক। ওই সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছে কাউন্সিল। আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
তবে করোনা টিকার উপর ৫% জিএসটি বহাল থাকছে। করোনার ওষুধের সাথে করোনার টিকাকেও জিএসটি মুক্ত করার দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনার ওষুধের কর পাওয়ার কমানো হলেও টিকার ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীকে টিকা ও ওষুধে কর কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন মমতা।
তারপর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন টুইটে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন টিকাকরণ মুক্ত করা হলে সেই বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরেই চাপবে। তবে এদিন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে টিকার ওপর পর প্রত্যাহারের দাবি করেনি রাজ্যগুলি। কারণ আগের ব্যবস্থাতে তাদের টিকা কিনতে হতো। কিন্তু এখন টিকা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির উপর টিকা কেনার দ্বায়িত্ব থাকছে না।
তবে বৈঠকে করোনার সরঞ্জাম ওষুধকে করমুক্ত করার দাবি করেছেন বিরোধীরা। সেই দাবি কেন্দ্র সর্বোপরি না মানলেও কর কমিয়ে ৫% রাখা হয়েছে।
আর্টিপিসিআর মেশিন, আরএনএ এক্সট্রাকশন মেশিন, জেনোম সিকোয়েন্সের মেশিনে জিএসটি হার ১৮% থাকছে। জেনোম সিকোয়েন্সিংর ক্ষেত্রে ১২% জিএসটি লাগে। তাতে কোন বদল হয়নি। করোনখ পরীক্ষায় ব্যবহৃত কাঁচামালেও কোন জিএসটি বদল হয়নি। তবে হেপারিন, রেমডিসিভির এবং করোনা চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশ অনুযায়ীযে কোন ওষুধে কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ হয়েছে। মেডিকেল অক্সিজেন, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ভেন্টিলেটর ভেন্টিলেটর মাস্ক, বাইপাপ মেশিনের উপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কোভিড পরীক্ষায় আগে জিএসটি লাগতো ১২% যা ৫শতাংশ করা হয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারেও জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

