আমাদের ভারত, ২৪ মে: হিন্দুত্ববাদ নিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত হল বিজেপির প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা।
তথাগতবাবু মঙ্গলবার লিখেছেন, “সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের পক্ষ থেকে শঙ্কর মন্ডল পাঠিয়েছেন। সংস্থাটির নাম আমি আগে শুনিনি, মানুষটিকেও চিনি না বক্তব্যের সঙ্গেও পুরোপুরি একমত নই। কিন্তু যা লিখেছেন তা অনুধাবনযোগ্য, তাই পোস্ট করলাম।
সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল পোস্টটিতে লিখেছেন, “দলবদল একটা নোংরা সংস্কৃতি, যা একেবারেই ছিল না পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু যেভাবেই হোক ২০১৪ থেকে এই নোংরা সংস্কৃতি বিজেপিতেও একটু একটু করে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং তা চরম আকার ধারণ করে ২০১৯ থেকে। আমি সেদিনও সমালোচক ছিলাম, আজও আছি আর ভবিষ্যতেও থাকবো।
যাই হোক যে কথা বলতে চাই, সেটা হল বর্তমান বিজেপি মনে হয় না তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে। কারণ এই নেতারা কেউ পরিশ্রম করে, সংগঠন করে নেতা হয়নি। এদের মধ্যে ভিন্ন দল থেকে আসা লোকেদের দোষ না দেওয়াই ভালো। কারণ মূল দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই সংঘ থেকে এসেছে। কিন্তু এদের কারোরই সংস্কার হয়নি, তা এদের ভোগবাদী মানষিকতা দেখেই প্রমাণিত। যদিও আমি এখনো বিশ্বাস করি সংঘের আদর্শ আনপ্যারালাল। কিন্তু সংঘ বিজেপিতে পাঠিয়েছে দিলীপ ঘোষকে, যার একটা পাঞ্জাবী কেনার পয়সা ছিল না, সে এখন দেড় লক্ষ টাকার ঘড়ি পড়ে। আর বাকিগুলো নাই বা বললাম। অমল চ্যাটার্জি, সুব্রত চ্যাটার্জি এবং বর্তমানে অমিতাভ চক্রবর্তির অনুগামী তৈরি করা ও সেই অনুগামীদের পদ বিক্রি করা ছাড়া বিশাল কিছু করেছে বলে মনে করি না। তাই আজ এই ধরনের সংগঠকরা কি করে পাটির শক্তি বৃদ্ধি করবে?
আর এই পরিস্থিতিতে মানুষের বিজেপির প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমশঃ তলানিতে। কিন্তু হিন্দুত্বের প্রতি আবেগ কমেনি, তাই এই মুহূর্তে হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন করাই একমাত্র পথ, যা এই বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয়। আর সেই অবস্থাতেই হিন্দু আন্দোলন করতে চাই, হ্যাঁ অবশ্যই আমি এখনো হিন্দুত্ববাদী আছি আর আমৃত্যু থাকবো। তাই আমাকে তৃণমূলের দালাল বলে লাভ নেই।
আমার কাছে অর্থ নেই, সীমিত ক্ষমতায় লড়াই করছি, অবশ্যই একদিন এই লড়াই স্বীকৃতি পাবে।আর রাজনৈতিক ভবিষ্যত? ভবিষ্যতই বলবে। তবে কোনদিনই হিন্দুত্বের বাইরে কোন কিছু নয়। জয় মা কালী, জয় মা শৃঙ্খলা।”
তথাগতবাবুর পোস্ট করার পর প্রথম তিন ঘন্টায়, বেলা সাড়ে তিনটায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ৩৫৮, ৫২ ও ৩।

