অশোক সেনগুপ্ত আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৭ মার্চ: ‘দি কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার টুইটারে তাঁর কড়া সমালোচনা করলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়।
বিকাশবাবু ফেসবুকে লিখেছেন, “কাশ্মীর ফাইলস, একটি চলচ্চিত্র| সেই চলচ্চিত্রর বাজার বৃদ্ধি তথা প্রোডিউসার এর মুনাফা বৃদ্ধির জন্য দেশের প্রধাণমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্যসরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করেতেও দ্বিধা করছে না| ঐ চলচ্চিত্র শিল্পগত দিক থেকে উচ্চমানের তা নয়| ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বমানে পৌঁছে দিয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী| কোনও সরকারি প্রচারের প্রয়োজন হয়নি| কাশ্মীর ফাইলস আসলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরী সংখ্যালঘু বিরোধী ঘৃণা তৈরীর কুপ্রয়াস| মোদী ও বিজেপি ঐ কুপ্রয়াসের উৎসাহদাতা| ঘৃণা সৃষ্টিকারী মোদী প্রধানমন্ত্রী পদের অযোগ্য| দেশের সার্বিক ঐক্যের স্বার্থে বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে|“
তথাগতবাবু প্রতিক্রিয়ায় টুইট করেছেন, তিনি লিখেছেন, “বিকাশবাবুদের কষ্টটা এখানেই যে, একশো বছরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিফলে যাচ্ছে। যাবেই, কারণ সত্য আর খারাপ অসুখ কখনো চাপা থাকে না (যেমন লেনিনের থাকেনি)। অনেকে আবার একে ব্যঙ্গ করে ‘কাশ্মীর পাইলস’ বলছেন। তাঁরা অজান্তে হলেও ঠিকই বলছেন, কারণ তাঁরা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানেন অর্শ কতটা যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু কাশ্মীরে নিহত বা বাস্তুচ্যুত পন্ডিতদের যন্ত্রনা তার চেয়েও বেশি। যে সব বামপন্থী সত্যের খাতিরে নিজেদের রোগের কথা প্রকাশ করতেও কুন্ঠিত হননি তাঁদের ধন্যবাদ।
মোহনদাস, জওহরলাল এবং বামপন্থীরা গত একশো বছর ধরে হিন্দুদের মনে যে ভন্ড মূল্যবোধ ঢোকাবার চেষ্টা করে আসছে তার মূল কথা হল, “মুসলমানরা যা-ই করুক, তাদের কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা চলবে না।” সেটা প্রথম ঘা খেল গোধরায় তীর্থযাত্রী পোড়ানোর প্রতিক্রিয়ায়। দ্বিতীয়, এই কাশ্মীর ফাইলস।”
ভাস্কর চ্যাটার্জি প্রতিক্রিয়ায় টুইটে লিখেছেন, বিকাশবাবু মনে হয় সিনেমাটা দেখেননি.. সিনেমাতে প্রতিটি ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া আছে। প্রধানমন্ত্রী প্রচার না করলেও সিনেমাটা চলতো। ভালো না হলে কেউ দেখতে যেতো না। এটা আসলে মানুষের মুখে মুখে বেশি প্রচার হয়েছে। Coin এর এক দিকটা সবাই দেখে উল্টো দিকটাও জানা দেখা উচিত। মানুষ হিসেব করবে।“
সন্তোষ কর লিখেছেন, “অতই যখন সেকুলার সেদিন শুয়োরের মাংস খেল না কেন? ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার।“ অনির্বান রায় প্রতিক্রিয়ায় টুইট করেছেন, “বিফ-বিকাশ বোধহয় ভুলে গেছেন পথের পাঁচালীর প্রযোজনা করেছিল পঃবঃ সরকার।“ লক্ষ্মণলাল তিওয়ারি লিখেছেন, “কমিউনিস্ট হচ্ছে ক্যান্সার।“

