মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে বুদ্ধদেবের নজির টানলেন তথাগত

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১ সেপ্টেম্বর: আলকায়দা যোগের অভিযোগে অসমে বুলডোজার দিয়ে মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নজির টানলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে অসমের বঙ্গাইগাঁওতে একটি বেআইনি মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। ওই মাদ্রাসায় ২২৪ জন শিশু থাকতো। রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পরেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অসমে ওই মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি সংবাদের কাটিং দিয়ে তথাগতবাবু বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের (সম্ভবত) একমাত্র সৎ সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০২ সালে বলেছিলেন, সীমান্ত অঞ্চলে কিছু মাদ্রাসায় দেশবিরোধী প্রচার হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই এই কথা না জেনে বলেননি! কিন্তু পরদিনই জ্যোতি বসু ও অন্যান্য কমরেডদের চাপে তাঁকে নিজের কথা অস্বীকার করতে হয়।“

প্রথমে টুইটারে, পরে ফেসবুকে দেওয়া এই মন্তব্যের যথেষ্ঠ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। স্বপন কুমার ভট্টাচার্য লিখেছেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মাদ্রাসা থেকে দেশ বিরোধীদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দলের চাপে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। আগের রাজনীতিতে সৎ লোকের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন সৎ রাজনৈতিক নেতাদের অভাব রয়েছে সব দলেই।“

এদিন বেলা সওয়া ১২টায়, পোস্ট করার প্রথম ১ ঘন্টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ৬৭১, ৩৭ ও ৪৬। বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “বুদ্ধবাবু শুধু ওই কথা বলেননি, তিনি সিপিএমের সব ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। ওনার দেওয়া কিছু ইন্টারভিউ এখনও ইউটিউউবে পাওয়া যায় সেটা দেখলে পরিস্কার বোঝা যাবে, যে ভুল রাজনীতির জন্ম সিপিএম দিয়েছিল সেখান থেকে বেরুতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। গরিব লোক বড় লোক ছোটলোক ভদ্রলোক করে মানুষে মানুষে বিদ্বেষ তৈরি করে অন্যায় ভাবে অপরের ঝেড়ে খাওয়ার যে রাজনীতির জন্ম বামপন্থীরা দিয়েছে তাতে সমাজের মূল্যবোধ তখন নষ্ট হয়ে গেছে। আমার মনে হয় বুদ্ধবাবু চিফ মিনিসটার না হয়ে লক্ষ্মণ শেঠ চিফ মিনিসটার হলে বামফ্রন্ট হারত না। যেমন সমাজ তেমন চিফ মিনিসটার হবে। এখন যেমন দিদিমণি। বুদ্ধবাবু অতি সৎ মানুষ বলেই আমাদের ওনার কাছে আবেদন উনি নিজেই বই লিখে আমাদের জানান কেন উনি সফল হতে পারলেন না, আর কেনই বা পুরো সমাজ চোর মাফিয়াদের হাতে চলে গেল। এর দায় কি তাদেরও নিতে হবে না?“

সমীরন তালুকদার লিখেছেন, “এই ধরনের কার্যকলাপ বামেদের আমল থেকে শুরু হয়েছে। এর থেকে আমরা পশ্চিমবঙ্গ বাসী মুক্তি চাই।“ প্রলয় ভট্টাচার্য লিখেছেন, “বুলডোজারই একমাত্র ওষুধ।“ সঞ্জীব নন্দী লিখেছেন, “ভারতে এক জাতি এক শিক্ষা নীতি থাকতে হবে। হিন্দু শিশু সেকুলার শিক্ষা শেখে এবং মুসলিম শিশু মাদ্রেশায় জিহাদি শিক্ষা শেখে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *