আমাদের ভারত, ১৪ জানুয়ারি: সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কলঙ্ক মাথা থেকে মুছবে বিজেপি, এমনটা বলেছেন প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আগামী ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে সভাস্থল ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। একইসঙ্গে সিঙ্গুরের মানুষের কাছে এই সভায় আসার আহ্বান জানান তিনি।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ফেব্রুয়ারির শেষেই ঘোষণা হতে পারে। তার আগে শাসক-বিরোধী উভয়েই প্রচারে গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বুধবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সিঙ্গুরে পৌঁছেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। এদিন তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে নরেন্দ্র মোদীর সভায় আসার আমন্ত্রণপত্র বিলি করেন। পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদার, সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন।
এরপর সিঙ্গুরে শিল্প আসবে কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সিঙ্গুরে টাটা আসবে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় শিল্প হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ২০২৬ সালে যখন বিজেপি সরকার হবে এই রাজ্যে, তখন সিঙ্গুরের এই মাটিতেই টাটা ফিরবে। শিল্প ফিরবে। আমরা সেই চেষ্টা করব। আমরা ১০০% বিশ্বাসী যে আমরা তাতে সফল হবো।
তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিঙ্গুরে আন্দোলন ভুল হয়েছিল? এই প্রশ্ন করতেই সুকান্ত মজুমদার সরাসরি ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তখন আন্দোলন হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার আন্দোলন, অন্য কিছুর জন্য নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে গিয়েছেন। স্কুলের বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাকরি চোর পার্থরও নাম ছিল। তার নাম সরিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। নিজেদের ব্যবসা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কিছু হয়নি। সিঙ্গুরের মানুষ কাশফুলের পাশবালিশ বানাচ্ছে।
এরপরেই সুকান্ত মজুমদার বলেন, সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানো কলঙ্ক। আমরা এটাকে কলঙ্কই মনে করি।সেই সময় রতন টাটার কথা মনে আছে। তিনি বলেছিলেন আমি খারাপ এম ছেড়ে ভালো এম বেছে নেব। খারাপ এম মানে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ভালো এম মানে তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কলঙ্ক সিঙ্গুরের মাটি থেকে ঘোঁচানোর কাজ বিজেপি করবে। এই পাপের কলঙ্ক আমরা আমাদের মাথা থেকে তাড়াবো। টাটা সহ অন্য শিল্পপতিদের এখানে নিয়ে এসে বলব তারা যেন এখানে বিনিয়োগ করেন। শিল্প গড়েন, যাতে এখানকার বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করেন। আমরা উত্তরপ্রদেশ সহ অন্য রাজ্যে করে দেখিয়েছি, এখানেও সেটা করব।

