নারী শাসকদের কীর্তিকলাপ দেখে মেয়ে হিসেবে লজ্জা বোধ করেন তসলিমা

আমাদের ভারত, ২৪ মে: “নারী শাসকদের কীর্তিকলাপ দেখলে মাঝে মাঝে মেয়ে হিসেবে বড়ই লজ্জা বোধ করি।“ মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এই মন্তব্য করলেন লেখিকা-চিকিৎসক তসলিমা নাসরিন। এই প্রসঙ্গে তিনি আলাদা করে মমতা বন্দোপাধ্যায়, শেখ হাসিনা, মায়াবতী এবং জয়ললিতার নাম উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার তসলিমা ফেসবুকে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি করা হয়, তার সব পোস্টার আর ব্যানারের মাথায় বড় বড় হরফে লেখা থাকে ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে’। তাঁর বড় বড় ছবিও একসময় থাকতো ওসবে, এমনকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির চেয়েও বড় ছবি। আমার একটি প্রশ্ন, মমতা বন্দোপাধ্যায় কি বলে দেন তাঁর ছবি এবং নাম থাকতে হবে প্রতিটি পোস্টার এবং ব্যানারে? নাকি মন্ত্রণালয়ের লোকেরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন? যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন, কেন নেন, না নিলে তাঁদের অসুবিধে করবেন উনি? নাকি নিলে খাতির জুটবে বেশি, সে কারণে?

ওই বাংলায় আবার হাসিনার জয় জয়কার। সব ব্যানারে পোস্টারে তাঁর এবং তাঁর বাবার ছবি। দেশনেত্রী, মহানেত্রী ইত্যাদি সব বিশেষণও জুড়ে দেওয়া। সব কিছুই তাঁর উদ্যোগে, তাঁর অনুপ্রেরণায়। এ কি হাসিনা বলে দেন বলে, নাকি চাটুকাররা বুঝে নেয় কী করলে প্রধানমন্ত্রী খুশি হবেন, ইনাম দেবেন?

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতারও এই বাতিক ছিল। নিজের মূর্তি গড়ার, নিজেকে দেবী রূপে প্রতিষ্ঠিত করার বাতিক। ওসব কি তাঁদের আদেশ অনুযায়ী করা হতো, নাকি চাটুকারদের ধর্ম অনুযায়ী চাটুকাররা তা করতো?

মেয়েরা যে সুযোগ পেলে পুরুষের মতোই ভয়ঙ্কর লোভী হতে পারে, সে আমি জানি। কিন্তু জনগণের সেবা করার জন্য যে মেয়েরা মসনদে রয়েছেন, তাঁদের কীর্তিকলাপ দেখলে মাঝে মাঝে মেয়ে হিসেবে বড়ই লজ্জা বোধ করি।“

পোস্ট করার পর প্রথম তিন ঘন্টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৯০০, ২৫ ও ৫৪।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *