মহালয়ার পুন্যলগ্নে ঘাটালের শিলাবতী নদীর বিভিন্ন ঘাটে তর্পণ

কুমারেশ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ অক্টোবর:
আজ মহালয়ার পুন্যলগ্নে ঘাটালের শিলাবতী নদীর বিভিন্ন ঘাটে উত্তরসূরিরা পিতৃপুরুষদের আত্মার তৃপ্তির জন্য তর্পণ করছেন। ঘাটে ঘাটে ছিল মানুষের ভির।

আজ শুভ মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসানে, দেবী দুর্গার আগমণী বার্তা। বাঙালির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর এই সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আজ দুর্গোৎসবের পূণ্যলগ্নে পিতৃপক্ষের শেষে দেবীপক্ষের শুরু। আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দেবী দুর্গার আগমন বার্তা।

পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছেন। অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হলেন দেবতারা। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। হিমালয়ের কৈলাশে স্বামী শিবের বাস। সেখান থেকেই সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে আসেন সমতল ভূমিতে। সঙ্গে নিয়ে আসেন কার্ত্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে। হিন্দু শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত।

মহালয়ার দিন গঙ্গাতীরে প্রার্থনা করে ভক্তরা মৃতআত্মীয়স্বজন অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন। মহালয়ার দিন থেকে পিতৃপক্ষের শেষ এবং দেবী পক্ষের শুরু। এই মহালয়া তিথিতে পূর্বপূরুষের আত্মার তৃপ্তির জন্য তর্পণ করেন পরবর্তী প্রজন্ম।

সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয়া বলা হয়। এইদিন পূর্বপুরুষদের আত্মার তৃপ্তির জন্য, পৃথিবীর সমগ্র কিছুর জন্য প্রার্থনার অন্যতম রীতি।
ঘাটালের শীলাবতী নদীর বিভিন্ন ঘাটে বাংলোর ঘাট, এসডিও অফিসের ঘাটে, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস ঘাট, বেরা পাড়া সংলগ্ন শীলাবতীর ঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দ্যেশ্যে তর্পন করেন উত্তরসূরীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *