আমাদের ভারত, ১২ মার্চ: নির্বাচনের জয়ের মুখ দেখতে গেলে বুথ শক্তিশালী করতেই হবে। আর সামনেই পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচন। তাই বুথের হাল ফেরাতে জেলায় জেলায় কাজে নেমে পড়লেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব। প্রতি বুথে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলের লক্ষ্য। সেই মর্মে রাজ্য বিজেপির সার্কুলার পৌঁছেছে ৪২টি সাংগঠনিক জেলায়। দলের বিধায়ক, সাংসদ রাজ্য নেতৃত্ব সকলেই নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বুথ শক্তিশালী করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। নিজের এলাকায় বুথ স্বশক্তিকরণ অভিযানে নেমেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও।

কোথাও কোথাও বুথ সচল রয়েছে। কোথাও আবার নামে বুথ থাকলেও কার্যকরী নেই। এমন জায়গায়ও আছে যেখানে বুথের অস্তিত্ব নেই। তবে এই বুথ স্বশক্তিকরণ অভিযানের মাধ্যমে সংগঠনের তৃণমূল স্তরকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু করল বঙ্গ বিজেপি। সমস্ত বুথকে আবার ফর্মে ফেরাতে মাঠে নেমেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে জয়ী বিধায়করা নিজেদের বিধানসভা এলাকার দায়িত্ব নেবেন। বাকি বিধানসভার দায়িত্বে থাকবেন রাজ্যের বাকি পদাধিকারীরা। মূলত পুরনো বুথ সভাপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হাতে পুনরায় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবে এর অন্যথা কিছু হলে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানাগেছে। সেই মতো বালুরঘাট লোকসভার বিধানসভা কেন্দ্রগুলির দায়িত্বে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের দক্ষিণ খানপুরের ৮৮ নং বুথ থেকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই বুথ স্বশক্তিকরণ অভিযান শুরু করেন। বালুরঘাটের সাংসদকে এদিন দেওয়াল লিখনে হাত লাগাতে দেখা যায়। এছাড়াও বুথের কর্মীদের নিয়ে বৈঠকও সারেন তিনি।

অন্যদিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভার দায়িত্বে রয়েছেন রাজের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মেদিনীপুর লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে দায়িত্বে রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এছাড়া উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ লোকসভায় দেবশ্রী চৌধুরী, দার্জিলিং লোকসভায় রাজু বিস্তা, চুঁচুড়া বিধানসভায় লকেট চট্টোপাধ্যায়, হাবড়ায় রাহুল সিনহা, বোলপুরে অনির্বাণ গাঙ্গুলি, শান্তিপুরে জগন্নাথ সরকার, মাদারিহাটে বান্দোয়ান মানবাজারে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, আলিপুরদুয়ারে দীপক বর্মন, আসানসোলে অগ্নিমিত্রা পাল, সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, রাজারহাট নিউটাউনের শমিক ভট্টাচার্যের মত নেতারা বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযান প্রসঙ্গে সুকান্তকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, বুথে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা তারা দিয়েছেন সেটা কি আদৌ সম্ভব? শুধুমাত্র বুথ কমিটি তৈরি করলেই কি এই লক্ষ্য পূরণ হবে? জবাবে সুকান্ত বলেন, “আমরা একটা লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছি। একটা সময় গুজরাটে ১০ শতাংশ ভোট পেতাম এখন একান্ন শতাংশ ভোট পাই। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না।” অর্থাৎ বুথকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তৈরি কর্মসূচি ঘিরে বিজেপির নেতৃত্ব যে কোমর বেঁধে নামছে সেটা স্পষ্ট তাঁর গলার সুরে।

