রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারি: কথাতেই আছে যেদিকে জনতার মন, সেদিকেই প্রচারের হাতিয়ার রাজনৈতিক শিবিরের। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের খেলা হবে নামে একটি স্লোগান জনপ্রিয় হওয়ায় তা নিয়ে সভার বক্তৃতায় কথা বলতে শুরু করেছিল যুযুধান দুই রাজনৈতিক শিবির। আর এবার ভোটের প্রচারে ব্রিগেডের সভা ভরাতে সিপিএম হাতিয়ার করল সাম্প্রতিককালের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘টুম্পা সোনা’কে। এই গান শুনে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ ব্রিগেডে আসবেন বলে আশা সিপিএমের। তবে গানটিকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য কিছুটা অদল বদল করা হয়েছে।
লকডাউন আবহে বাংলায় ‘হিট’ শ্রমজীবী ক্যান্টিন। ইতিমধ্যে ভোটমুখী বাংলায় বামেদের মুখে স্লোগান, ‘ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল।’ এদিকে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আসন্ন নির্বাচন লড়বে বামফ্রন্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছে এই ধর্মনিরপক্ষে জোট। এবার তাই ধর্মনিরপেক্ষ জোটের এই সমাবেশে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সিপিএমের প্রচারে ঢুকে পড়ল ভাইরাল ‘টুম্পাসোনা’। টুম্পার গানের অনুসরণে ব্রিগেডমুখী একটি গান ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে ঘুরছে। সূর্যকান্ত মিশ্র প্রথম শেয়ার করার পর মূলত বামপন্থীরা গানটি তাঁদের নেটমাধ্যমে ‘শেয়ার’ করতে শুরু করেছেন। সেই গানের কথা যাঁরা শুনেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহ বলছেন যে, এ জিনিস সিপিএমের যুবদের ‘রসিক এবং সজাগ মস্তিষ্ক’ ছাড়া অসম্ভব। গানের সঙ্গে কার্টুনে লালঝাণ্ডায় স্পষ্ট কাস্তে-হাতুড়ি দেখা যাচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, টুম্পার ব্রিগেডের গানটিও ‘ভাইরাল’ হওয়ার পথে। এতটাই যে, শাসক তৃণমূল শিবিরের নেতারাও নির্মল আনন্দ পেতে ঘরোয়া স্তরে সেটি একে অপরকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে শুরু করেছেন। যদিও গানে তাঁদের সঙ্গে বিজেপি-র সমঝোতার কথা বলে সেটিকে ‘বিজেমূল’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। গানের ধুয়োয় ঘুরেফিরে এসেছে ‘টুম্পা, তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব। টুম্পা, চেন-ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাব’।
বামেদের তরফে শরিক নেতাদের পাশাপাশি থাকবেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। কংগ্রেস সূত্রের খবর, রাহুল গাঁধী এবং প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢরা ব্রিগেড সমাবেশে অন্যতম বক্তা হিসেবে আসতে পারেন। তাঁদের সময় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

