জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ মার্চ: লেট ফাইন দিয়ে
মাধ্যমিক পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করেছিল। তারপরও মিলল না এডমিট কার্ড। আর এডমিট কার্ড না মেলায় জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বসা হল না দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ইস্পাত পল্লীর বাসিন্দা তন্ময় হাজরার। সোমবার মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল শিল্পশহর দুর্গাপুর।
দুর্গাপুর শিল্পশহর লাগোয়া বিজড়া হাইস্কুলের ছাত্র তন্ময় হাজরা। গত ৩ থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পারিবারিক এক প্রিয়জনের দুর্ঘটনার জন্য মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপ করতে পারেনি বলে দাবি তন্ময়ের। পরে বিজড়া স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের লোক যোগাযোগ করে লেট ফাইন জমা দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে সে। তন্ময়ের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। কিন্তু এডমিট কার্ড না আসায় এদিন আর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা হল না। এদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে তন্ময়।
অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তন্ময়ের জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বসা হল না।
তার পরিবারের লোক প্রশ্ন তোলে, “যদি ফর্ম ফিলাপ করা নাই যায়, তাহলে লেট ফাইন জমা করার কথা বলা হল কেন তন্ময়কে?”
সোমবার তন্ময় ও তার পরিবার কাঁদতে কাঁদতে বিজড়া স্কুলের পরীক্ষার সেন্টার ইস্পাত নগরীর মেঘনাথ সাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু সেখানেও পুলিশ বাধা দেয় পরীক্ষা সেন্টারে ঢুকতে। সেখান থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয় বিজড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজামউদ্দিন মন্ডলের সঙ্গে। তখন তিনি তার অসহায়তার কথা জানান।”
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য স্কুলের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে দায়ী করেন তন্ময় ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বিজড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজামউদ্দিন মন্ডল যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,
“ফর্ম ফিলাপের সময় জানানো হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো ফর্ম ফিলাপের দিন আসেনি। যখন এসেছিল, তার অনেক আগে ফিলাপ হয়ে ফর্ম বোর্ডে পাঠানো হয়ে গেছে। তবুও চেষ্টা করা হয়েছিল। টেস্টের ফলাফল সহ বোর্ডে আবেদন করা হয়ছিল। কিন্তু বোর্ড কোন অনুরোধ শোনেনি।”

