আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৯ জুলাই: নিম্নচাপের ফলে গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে জল জমে যায় তমলুক জেলা হাসপাতাল চত্বরে। রাতের দিকে ওয়ার্ডের ভেতরেও জল ঢুকে গিয়েছিল। তবে পাম্প চালিয়ে সেই জল বের করা হয়েছে। আজ সকালেও দেখা গেল পাম্প চললেও হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের বাইরের প্রায় অধিকাংশ রাস্তা জলমগ্ন। আউটডোর, ইনডোর ও ইমারজেন্সি বিভাগে যাওয়ার ঢোকার গেট ও রাস্তা জলে ডুবে আছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগীর বাড়ির লোকজন সহ নার্স, ডাক্তার বাবু এবং কর্মীরা প্রত্যেকেই।

সবথেকে সমস্যায় পড়েছেন রোগীর বাড়ির লোকজন। হাসপাতাল চত্বরে রোগীর বাড়ির লোকেদের থাকার জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা বিভিন্ন জায়গায় থাকেন এবং প্রয়োজনে রাত কাটান। কিন্তু সেই সব জায়গা জলে ভিজে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। ইনডোরে যাওয়ার প্রধান গেটের সামনে যে সিঁড়ি আছে সেই সিঁড়ির তলাতেই বহু মানুষ রাত কাটান। সেখানেও বৃষ্টির জলের জন্য অবস্থা খুবই খারাপ। তাই সমস্যায় পড়েছেন রোগীর বাড়ির লোকজন। আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত নিম্নচাপের জেরে ক্রমাগত বৃষ্টি হতে থাকলে কি পরিস্থিতি হবে তা অবশ্য কারোরই জানা নেই।

অন্যদিকে পাম্প দিয়ে জল বের করার যে ব্যবস্থা আছে সেই পাম্পের পাইপে প্রচুর ছিদ্র হয়ে গিয়েছে। ফলে বেশকিছু জল এলাকাতেই রয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনার সূত্রপাত আজকে নয় দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল চত্বরে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জল জমে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এর জন্য দায়ী করেছেন নির্মীয়মান মেডিকেল কলেজের কাজকে। এই কাজের জন্য জল নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে ফলে সমস্যা বেড়েছে। কবে এই মেডিকেল কলেজের কাজ শেষ হবে তারপরে নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক হবে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে। ততদিন কি এভাবেই মানুষজনকে নোংরা জল ভেঙে হাসপাতলে আসতে হবে এই প্রশ্ন হাসপাতালের কর্মীদেরও।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে বর্তমানে অনেকগুলি পাম্পের ব্যবস্থা করা আছে এই জল বের করে দেওয়ার জন্য। মেডিকেল কলেজের কাজ শেষ হয়ে কবে আবার নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক হবে সেই দিকে তাকিয়ে সবাই।


