আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৩ আগস্ট: টানটান উত্তেজনা, উৎকন্ঠার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরলেন নিমতার ওলাই চন্ডিতলার বাসিন্দা তমাল ভট্টাচার্য। রবিবার রাত ১০.৩০ টার বিমানে আফগানিস্তান থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তমাল ভট্টাচার্য এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পুলিশ এস্কটের মধ্য দিয়ে নিজের বাড়িতে পৌছান পেশায় স্কুল শিক্ষক তমাল ভট্টাচার্য।
গত মার্চ মাসে তিনি নিমতা থেকে পেশাগত কারণে গেছিলেন কাবুলে। সেখানে তিনি একটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষকতা করতে যান। আগস্টের মাঝামাঝি থেকেই দুশ্চিন্তার শুরু হয়। এই দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায় গত বেশ কয়েক দিনের তালিবানদের কাবুল দখল করাকে কেন্দ্র করে। একদিকে কাবুলে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় দিন কাটিয়েছেন তমাল বাবু, অন্যদিকে ছেলের চিন্তায় খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায় নিমতার ভট্টাচার্য পরিবারের। কাবুলে থাকাকালিন তমালবাবু বারবার ভারত সরকারের কাছে দেশে ফেরার আবেদন করেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে অবশেষে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে এলেন তমালবাবু। আর ছেলে সুস্থ ভাবে ঘরে ফেরায় উচ্ছ্বসিত পরিবার।

রবিবার রাতে ছেলে বাড়িতে ফিরেছে, তাই তাকে তার পছন্দের খাবার তৈরি করে দিতে উদগ্রীব মা-বাবাও।
সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসায় ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তমাল ভট্টাচার্য। তবে আগামী দিনে ফের আফগানিস্তানে ফিরে যাবেন কি না সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত
নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ ইতিমধ্যে মঙ্গোলিয়াতে তার চাকরির প্রস্তাব এসেছে।
আফগানিস্থানে থাকাকালীন তালিবানি সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ওপর কোনও অত্যাচার ওনারা করেননি, আমরা বেশ কয়েকজন ছিলাম। তালিবানদের কাছে আমরা ছিলাম অতিথি। আর ওরা ওদের অতিথিদের খুব দেখাশোনা ও নজর রাখে। আর ওরা আমাদের খাবার, জল ও ওষুধের সুব্যবস্থা করে দিয়েছিল। বলতে গেলে তালিবানরা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। তাও আমাদের মাথায় চিন্তা ছিল আমরা বাঁচবো না মরবো। তবে ওরা যখন আমাদের আশ্বস্থ করলো তখন বুঝলাম যে প্রাণে বেঁচে ফিরবো। আর এখন ঠিক ভাবে বাড়ি এসে শান্তি। আমি অবশ্যই ভারত সরকার ও ভারতীয় বায়ু সেনাকে ধন্যবাদ দেব, ওনারা না থাকলে আমাদের দেশে ফেরা হতো না। তবে আগামী দিনে ওই দেশে আবার চাকরি করতে যেতে পারি যদি তালিবানরা আমার প্রাণ, সম্পত্তির রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।” এদিন তিনি ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেন, এখনো অনেক ভারতীয় রয়ে গেছেন ওই দেশে। তাদের দ্রুত সুস্থ ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনুক ভারত সরকার।”
এত চিন্তার পর অবশেষে ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দিত তমালের বাবা শ্যামল ভট্টাচার্য। তিনি এদিন কোনও রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, “অনেকদিন পর ছেলের জন্যই একটু ভালোমন্দ রাঁধবেন। আমি খুব খুশি আজ ছেলে ফিরে এসেছে। আর আমি এই সরকারের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ।”

