আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই: আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি এলাকা দখল করেছে তারা বলে দাবি করেছে তালিবানরা। আর তারপর থেকেই দখল করা ওই এলাকাগুলিতে চলছে জঙ্গি তান্ডব। তালিবান অধিকৃত কান্দাহারের স্পিন বোলদাকে ১০০ জনের বেশি সাধারণ মানুষের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার টোলো নিউজ এই খবর প্রকাশিত করে।
সংবাদ মাধ্যমের এই খবরকে সুনিশ্চিত করেছেন আফগানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রালয়ের মুখপাত্র এবং এই হত্যার জন্য তিনি তালিবানকেই অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তালিবানরা স্পিন বোলদাক দখল করার পর সেখানকার নির্দোষ জনগণের বাড়িতে আক্রমণ চালায়, লুটপাট করে এবং ১০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করে।
গত সপ্তাহেই কান্দাহার জেলা দখল করেছে তালিবান। তার পর থেকেই যেভাবে সেখানে তারা তান্ডব চালাচ্ছে তার ছবি প্রকাশ্যে এনেছে ফ্রান্স ২৪। প্রকাশিত সেই ভিডিওতে তালিবানদের ঘর-বাড়ি লুটপাট, সরকারি আধিকারিকদের গাড়ি দখলের ঘটনা ধরা পড়েছে।
যদিও তালিবান এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মোজাহিদ দাবি করেছে, এই হত্যাকান্ডে তাদের হাত নেই। এমনকি কান্দাহারের আফগান-তালিবানের গুলিযুদ্ধে প্রাণ হারানো রয়টার্সের ভারতীয় চিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যুর দায়ও এড়িয়েছে তালিবান।
উপরন্তু তালিবানের মুখপাত্র মৌলানা ইউসুফ আহমদি এক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সংবাদ মাধ্যেমের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এসেছে। সাংবাদিকদের সাথে তাদের কোনও সমস্যা নেই। এছাড়া চিত্র সাংবাদিক দানিশকেও তারা হত্যা করেনি। সূত্রের খবর, রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির হাতে দানিশের মৃতদেহ তুলে দিয়েছিল তালিবানরাই।
সংবাদ সংস্থা এপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তালিবানের অন্য এক মুখপাত্র সুহেল শাহিন জানিয়েছেন, তারা আফগানিস্তানে কোনও যুদ্ধ চায় না। ক্ষমতার একত্রীকরণের বিরোধী তারা। তাদের দাবি, যত দিন না রাষ্ট্রপতি আশরফ ঘানি অপসারিত হয়ে কাবুলে আপোসের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হবে ততদিন আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে না।
আমেরিকার ‘জয়েন্ট চিফ-অফ-স্টাফ’ চেয়ারম্যান মার্ক মাইলি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ৪১৯ টি জেলার অর্ধেকের বেশি অংশ তালিবানরা আক্রমণ করেছে ঠিকই কিন্তু দেশের বড় ও প্রধান শহরগুলিতে এখনও তালিবান পৌঁছতে পারেনি। ফলে আফগান সেনা সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে সেগুলি রক্ষা করবে।
যদিও আমেরিকা তাদের ৯৫ শতাংশ সেনা আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে এবং আগামী ৩১ আগষ্টের মধ্যেই তা সম্পূর্ন হবে। তবুও সামরিক সাহায্য থেকে আমেরিকা পিছু হঠবে না বলে জানিয়েছেন লয়েড অস্টিন। ইতিমধ্যেই আমেরিকা তিনটি অত্যাধুনিক ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার দিয়েছে আফগান সেনাবাহিনীকে। পরবর্তীকালেও একইভাবে সাহায্য করবে আমেরিকা বলে জানানো হয়েছে।

