সন্ন্যাসীনির বেশে ক্লাশ নিলেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপিকা ড. রুমকি সরকার

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২ নভেম্বর: পুরোপুরি সন্ন্যাস জীবন বেছে নিয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপিকা ড. রুমকি সরকার। তাঁর সন্ন্যাস জীবন শুরুর পর আজ প্রথম ক্লাস নিলেন তিনি। সন্ন্যাসীনির বেশে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করলন রুমকি দেবী।

ছোটবেলা থেকেই স্বামী বিবেকানন্দের বাণী তাঁকে আকৃষ্ট করে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয়গ্রন্থ নিয়মিত পাঠ করা এক প্রকার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অধ্যাপিকা ড. রুমকি সরকারের। এবার কলেজে কর্মরত অবস্থাতেই পুরোপুরি সন্ন্যাস জীবন বেছে নিলেন রুমকি সরকার।

অবিবাহিত ৩৮ বছরের রুমকিদেবীর বাড়ি বর্ধমানে। তিনি ছাত্রাবস্থা বর্ধমানে কাটিয়ে পরবর্তীকালে আইআইটি খড়গপুরে গবেষণার কাজে যান। পরবর্তী সময়ে পুনরায় বর্ধমানে ফিরে এসে বর্ধমান ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা পূর্ণ করেন। প্রথমে তিনি বর্ধমানের একটি উচ্চ বিদ্যালয় চাকরি পেলেও পরে সেটি ছেড়ে দেন। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপিকা পদে যোগ দেন। বাড়িতে বৃদ্ধা মা ও বাবা রয়েছেন ও এক দিদি রয়েছে, তার বিয়ে হয়েছে কলকাতায়। রুমকি দেবী রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন।

তিনি সাংসারিক জীবন ত্যাগ করলেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন কারণ তার মত ‘কর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম’ অন্যের কর্মে জীবন চালানোর প্রথাকে তিনি বিশ্বাস করেন না। পাশাপাশি নব প্রজন্মকে পাঠ দান করে জীবনের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়াই তাঁর কর্ম বলে মনে করেন তিনি। সংসারের মোহ কাটিয়ে কাম ক্রোধ ও মোহ ত্যাগ করে একেবারে সাধু-সন্ন্যাসীদের মতো থাকবেন তিনি।

তিনি যে অনেক দিন ধরে আধ্যাত্মিক চর্চা করে চলেছেন তার কথাতেই তা স্পষ্ট। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দির থেকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। রুমকিদেবী বলেন, সন্ন্যাসের নিয়ম মেনে সন্ন্যাসী হয়েছি। সংসারের জীবন ত্যাগ করলেও কর্মজীবনে থাকছি। বৃহৎ সংসারে থাকব। এই জীবনে আসা হঠাৎ নয়। অনেকদিন ধরে এর মধ্যে ছিলাম। ব্রহ্মচর্য ছাড়া তো এই জীবনে আসা যায় না, যারা আমাকে কাছের থেকে দেখেছেন তারা জানেন। সন্ন্যাস যোগের জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় যোগ মিলল।

তিনি আরও জানান, আড়াই বছর আগে মহারাষ্ট্রের নাসিকের থেকে ২০ কিমি ত্র্যম্বকেশ্বরে গিয়ে গুরুদেবের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এসেছিলাম। এবারে গিয়ে যোগ নিলাম। ১২টি জ্যোতি লিঙ্গের মধ্যে একটি জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে ওখানে। ১২ বছর আগে বর্ধমানে দীক্ষা নিয়েছিলাম গুরুদেবের কাছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া পোশাক পরেই আসেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে বাহ্যিক আড়ম্বরকে প্রাধান্য না দিয়ে মনকে সংযত রাখার পাশাপাশি নির্বিকার ও শান্ত থাকা এবং কর্মকেই সবচেয়ে বড় ধর্মের মান্যতা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে সহকর্মী সকলের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানালেন সন্ন্যাসীনি অধ্যাপক রুমকি দেবী।

রুমকি দেবীর সন্ন্যাসীর বেশে পাঠদান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বলেন, সন্নাসীর বেশে রুমকি দেবীর পাঠদান তাঁদের খুবই ভালো লাগছে।

এই বিষয় নিয়ে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও পোশাক পরিচ্ছদ এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান যাতে ঠিকমতো হয় সেটা দেখাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।

‘মনেপ্রাণে হিন্দুত্ববাদী’দের কাছে অনুরোধ। আমাদে সাহায্য করুন। খুব আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বাংলায় একমাত্র আমরাই প্রতিদিন এই ধরণের খবর করছি। আমরা ২৫ জন রিপোর্টার এর সঙ্গে যুক্ত। 🙏
ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং ফোনপে কোড:
Axis Bank
Pradip Kumar Das
A/c. 917010053734837
IFSC. UTIB0002785
PhonePay. 9433792557
PhonePay code. pradipdas241@ybl

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *