সংখ্যালঘু বৃত্তি প্রদানে বড় দুর্নীতির অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের

আমাদের ভারত, ৩১ আগস্ট: সংখ্যালঘু বৃত্তি প্রদানে বড় দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহ দিয়ে তিনি টুইটারে দাবি করেছেন, এই দুর্নীতিতে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ আর্থিক বছরের মধ্যে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের ১৪৪ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ এবং পার্সি— এই ৬টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাক ম্যাট্রিক বৃত্তি, ম্যাট্রিক-পরবর্তী বৃত্তি ও আর্থিকভাবে দুর্বলদের মেধাবৃত্তি— এই ৩টি মেধা প্রকল্প চালায়।

২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত ৫ বছরে গড়ে প্রতি বছর ৬৫ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এই তহবিল ছাত্রদের সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দালাল, ব্যাঙ্ক ও স্কুল কর্মী, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র পড়ুয়াদের বৃত্তি প্রতারণা করার ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ।

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক রিসার্চকে (এনসিএইআর) নিযুক্ত করেছে। সিবিআই এখন সংখ্যালঘু বৃত্তি ‘কেলেঙ্কারি’-তে “অজ্ঞাতপরিচয় নোডাল অফিসার, সরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিক বা সরকারি কর্মী এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের” বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। কেলেঙ্কারিতে এখন পর্যন্ত ৮৩০টি “ভুয়া” প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে।

সিবিআই এফআইআর, এনসিএইআর রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ইনস্টিটিউট নোডাল অফিসার (আইএনও) বা জেলা নোডাল অফিসার (ডিএনও) স্তরে সুবিধাভোগীদের যাচাইকরণ ঠিকমত করা হয়নি। বিষয়টির সাথে আপোস করা হয়েছিল এবং বৃত্তির পরিমাণটি অসাধু যোগসাজশে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এসবের সঙ্গে যুক্ত আছে কিছু সংগঠন, ব্যাঙ্ক এবং সাইবার ক্যাফের মালিক। সবচেয়ে সাধারণ অনিয়ম হল: তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী সংস্থাগুলি সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, তবুও তারা এই প্রকল্পের সুবিধাগুলি গ্রহণ করেছে।

তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের কিছু স্কুলে ‘ভুয়ো’ হিসেব পাওয়া গেছে। জাল ছাত্রদের সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বাইরের রাজ্যের নানা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের নাম নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় আবাসিক রাজ্য জেলা নোডাল অফিসাররা তাতে সায় দিয়েছেন।

পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (পিএফএমএস) এ নথিভুক্ত সংখ্যালঘু ছাত্রদের সুবিধাভোগী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে মিলিয়ে দেখার সময় ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে (এনএসপি) এই গড়মিল প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতি কমানোর জন্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো (বেনিফিট ট্রান্সফার স্কিম) সত্বেও
সরাসরি বৃত্তির পরিমাণ বণ্টনে এভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্যজুড়ে সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ও দুর্নীতি চলছে।

আমি আগেও এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। বিষয়টি সামনে আসার অনেক আগে আমি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা তিনটি এফআইআর উল্লেখ করেছি। ক্ষমতাসীন টিএমসি দলের নেতারা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে পুলিশ নিষ্ক্রীয়। পশ্চিমবঙ্গে এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এমন কিছু তথ্য এখানে দিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *