অশোক সেনগুপ্ত আমাদের ভারত, ৩ জুলাই: নিঃস্ব থেকে কয়েক কোটি টাকার মালিক। দেবাঞ্জন-কান্ডে ধৃত বাড়ির মালিক অশোক রায়ের উত্তরণে বিস্মিত পুলিশ। যদিও এই উত্থানে কাকে, কীভাবে তিনি ঠকিয়েছেন, তার পুরো তথ্য এখনও গোয়েন্দাদের হাতে আসেনি।
অশোক রায়ের নাম পুলিশের তদন্তে অবশ্য আগেই উঠে এসেছিল। তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, বাড়ি ভাড়া হিসেবে মাস গেলে অশোককে ৬৫ হাজার টাকা দিতেন দেবাঞ্জন দেব। জেরায় দেবাঞ্জন নিজেই সে কথা জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, পাঁচ ছোট্ট ছেলেমেয়েকে ফেলে রেখে অশোকের বাবা পড়শি রাজ্যে চলে যান। এক মহিলার সঙ্গে সংসার পাতেন। চরম দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। তৃতীয় শ্রেণি অবধি পড়াশোনা। শৈশবে এঞ্জেল প্রিন্টার-এ শ্রমিকের কাজ পান। সেটির মালকিন ওই একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের মালিকের কাছে অশোক রায়কে দিয়ে যান কাজ শেখানোর জন্য। তখন বয়স ছিল ১৫ বছর।
জানা গিয়েছে, এর পর অশোক রায় ১৯৮১ সালের মাঝামাঝি থেকে ওই পত্রিকায় কাজ করেন। সংস্থার মালিকের খুব কাছে লোক হয়ে ওঠেন। এর পর ১৯৯৮ সালে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা খোলেন। নাম দেন কুইন আর্ট সার্ভিস। পত্রিকার মালিক অসুস্থ হওয়ার পর, কর্মীদের নিয়ে বেরিয়ে এসে অশোক রায় ‘সময় পরিবর্তন’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা খুলে বসেন।
সূত্রের খবর, অশোকবাবু বিজ্ঞাপন সংস্থা শুরু করেছিল মানিকতলা বাজারের সামনে একটি বাড়িতে ছোট অফিস ভাড়া নিয়ে। তার পর নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করেন। ২০১৮ সালে ‘সময় পরিবর্তন’ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক খোলেন। কিছুকাল আগে একটি সুপরিচিত দৈনিকের সিংহভাগ মালিকানা কিনে নেন। ওই পত্রিকায় দেবাঞ্জন দেবের সচিত্র খবর প্রকাশ হয়েছে। তাই দু‘জনের মধ্যে বিশেষ সমঝোতার খোঁজও পাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
প্রশ্ন হচ্ছে এতো কম সময় এতো টাকা অশোক রায়ের কাছে এলো কি করে? কে বা তাকে সাহায্য করল? তাহলে কি অশোক রায় প্রকাশনার নাম করে পেছনে বড়ো কিছু করতেন? কসবার বাড়িটি কেনার সঙ্গে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তার যোগসাজসের খবরও কানে এসেছে গোয়েন্দাদের। কয়লা শিল্পের কিছু বড় মাফিয়া ও অফিসারকে ব্ল্যাকমেল করে রোজগার করতেন বলে পুলিশ জেনেছে।
ভুয়ো টিকাকাণ্ডে বুধবার অশোককুমার রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতে ধৃতের আইনজীবীরা জানান, দেবাঞ্জনের কাছ থেকে ভুয়ো টিকা নিয়েছিলেন তাঁদের মক্কেল। পরিবারের সদস্য এবং তাঁর কর্মচারীদেরও একই টিকা দিয়েছিলেন। দেবাঞ্জন অশোক রায়ের থেকে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকাও নিয়েছিলেন। এই প্রমাণকে হাতিয়ার করেই অশোক রায়ের জামিনের সপক্ষে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবীরা। কিন্তু জামিন হয়নি।

