Supreme Court, AIPAC, আইপ্যাক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ: রাজ্য বিধানসভা ভোট প্রচারের মধ্যেই মঙ্গলবার আইপ্যাক মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফের আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করলো সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল আদালতের কাজের সময় নির্ধারণ করার অধিকার কোনো পক্ষের নেই।

কলকাতায় আইপ্যাক- এর অফিসে ইডির তল্লাশি এবং সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হওয়া মামলার শুনানিতে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক ছিল।

মঙ্গলবার শুনানির মাঝে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিচারপতি মিশ্র একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান কেন্দ্র ও রাজ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ২০৩০ সালে যদি আপনার দলই কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকে এবং অন্য কোন দলের মুখ্যমন্ত্রী সেই একই কাজ করেন তখন আপনি কী করতেন?

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, মামলা দায়েরর সময় কি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছিল, নাকি শুধুমাত্র ইডির আধিকারিকদের নিশানা করা হয়েছিল? পাশাপাশি বোফোর্স মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে কি বোফোর্সের মতো উদাহরণ টানতে হবে?

বিতর্ক যখন আরো বাড়তে পারে, তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের একটি মন্তব্য টেনে এনে নির্বাচনের সময় আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অনেক বছর আগে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন নির্বাচনের সময় আদালত এই ধরনের মামলা থেকে দূরে থাকবে।

এই মন্তব্যের জবাবে বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আদালতের কাজের সময় বা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করার অধিকার কারোরই নেই। তাঁর কথায়, আমরা নির্বাচন থেকেও দূরে থাকবো, আবার অপরাধ থেকেও। হঠাৎ আপনি অর্থাৎ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করতে পারেন না। এই ধরনের কথা বলার অনুমতি দিতে পারি না।

বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট করে দেন, আদালত কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতাতে চায় না। আবার আমরা কোনো অন্যায় বা অপরাধের অংশীদারও হতে চাই না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।

মাধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে শুনানির সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি পিকে মিশ্র রাজ্যের আইনজীবী কপিলের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির তদন্তে ঢুকে পড়েন তাহলে আপনারা বলছেন ইডি রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিকার চাইবে? যার প্রধান আবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

বিচারপতি পিকে মিশ্র এদিন বারবার ইঙ্গিত দেন, এখানে অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, আমরা কিছু ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু অভিযোগ তো রয়েছেই তার ভিত্তি আছে বলেই তদন্তের দাবি উঠছে। বিচারপতি পিকে মিশ্র আরো বলেন, ইডির আধিকারীদের সঙ্গে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে তাদের অধিকার নিয়েও ভাবতে হবে।

সুপ্রিমকোর্ট জানায়, এই মামলায় দুটি আলাদা অভিযোগ রয়েছে। একটি হলো বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত। একটি হলো আইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত। অন্যটি সেই তদন্ত চলাকালীন ইডির অধিকারীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ। এ দুটিকে এক করে দেখা যাবে না।

এই দিনের মতো শুনানি শেষ করে আদালত জানিয়ে দিয়েছে পরবর্তী শুনানি হবে আগামী এপ্রিল মাসে। ফলে ভোটের আগে এই মামলার গুরুত্ব আরো বাড়লো বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *